সুদেষ্ণা মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ ধেয়ে আসছে নিম্নচাপ। যার জেরে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের আশঙ্কা। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের ফলে বৃষ্টি হবে কম-বেশি দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই। তবে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে। প্রতিবারই ঝড়ের প্রভাব পড়ে সুন্দরবনে। সেই কারণে এবারও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সেখানে সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা উপকূল তীরবর্তী এলাকায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা।
{link}
ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলায় জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় বৈঠক চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার চালিয়ে মানুষকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অকারণে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। নবান্নে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রয়োজনে বিপর্যয় মোকাবিলার সঙ্গে জড়িত আধিকারিক ও কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হতে পার, এমনটাই খবর নবান্ন সূত্রে।
{link}
এদিকে, আবহাওয়া দফতর নিম্নচাপের ফলে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের পূর্বাভাস দেওয়ায় আতঙ্কে ঘুম উড়েছে সুন্দরবনবাসীদের। পূর্ণিমার ভরা কোটাল ও নিম্নচাপের জেরে একাধিক নদী বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেটা হলে গ্রামে জল ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে চাষের জমিও। ফলে উদ্বেগে স্থানীয়রা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সেচ দফতরের পক্ষ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সুন্দরবনের নদী বাঁধ মেরামতির কাজ চালানো হচ্ছে। বকখালি, নামখানা, ক্যানিং, গঙ্গাসাগরে ইতিমধ্যেই জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার চালানোর মাধ্যমে পর্যটকদের সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের সমুদ্রস্নানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
