সুদেষ্ণা মন্ডল , দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, তার জেরে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টিপাত। বুধবার সকাল থেকে কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে বাংলার আকাশ। উপকূলীয় এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে ঝড়ো হাওয়ার দাপট, সমুদ্র উত্তাল। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আজও দীঘা, মন্দারমনি, তাজপুর, বকখালি ও সাগরদ্বীপে সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পর্যটকদেরও সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। সিভিল ডিফেন্স এর পক্ষ থেকে পর্যটকদের সমুদ্র স্নানে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{link}
একটানা বৃষ্টি ও পূবালী বাতাসে আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে সুন্দরবনবাসীর।বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ, সাগর-সহ উপকূলের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে বাড়তি নজরদারি রয়েছে প্রশাসনের। সঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে ক্যানিং, বাসন্তী, গোসাবা, কুলতলি-সহ সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায়। নিম্নচাপ ও কোটালের জোড়া ফালার মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি সেরে রেখেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। প্রায় ১০৫ টিরও বেশী ফ্লাড সেন্টার ও স্কুল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলে বিপদের সম্ভাবনা বাড়লেই নিরাপদ স্থানে তুলে আনা হবে বাসিন্দাদের। ২টি বিশেষ সিভিল ডিফেন্সের দলও তৈরি রাখা হয়েছে। এই দলগুলি বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত। একটি মহিলাদেরও দল তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সুন্দরবনের ব্লকে পাঠানো হবে দলগুলিকে। জেলা সদর আলিপুরে একটি মেগা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি কাকদ্বীপ, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার মহকুমাশাসকের দপ্তর ও সুন্দরবনের ১৩টি ব্লকে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। প্রতিটি পঞ্চায়েতকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
{link}
নিম্নচাপের পাশাপাশি আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে পূর্ণিমার ভরা কোটাল। কোটাল আরও চিন্তা বাড়াচ্ছে এলাকাবাসীর। ঝোড়ো বাতাস ও জলস্তর বাড়লে আবারও মাটির নদী বাঁধ ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা সুন্দরবনবাসীদের। গত গুরুপূর্ণিমাতেও জলস্তর বৃদ্ধির ফলে সুন্দরবনের একাধিক মাটির নদী বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। এক বাসিন্দা বলেন, বিগত ঝড়ের পর থেকেই প্রতি বার অমাবস্যা ও পূর্ণিমার ভরা কোটালে সুন্দরবন উপকূলের কাঁচা মাটির নদী বাঁধ ভেঙে নোনা জলে প্লাবিত হয় এলাকা। কিছু কিছু জায়গায় পাকা বাঁধ নির্মাণ করেছে প্রশাসন। তবে এখনও কিছু অংশে কাঁচা মাটির নদী বাঁধ থাকায় নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে প্লাবিত হয় এলাকা।
.jpeg)
