নিজস্ব সংবাদদাতা,দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ তীব্র গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। ক্রমশ চড়ছে তাপমাত্রার পারদ। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কলকাতায় এখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জায়গায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় এমনই পরিস্থিতি থাকবে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর।
{link}
হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত চলবে তাপপ্রবাহ। সব মিলিয়ে একেবারে নাজেহাল অবস্থা জেলাজুড়ে। গত দুই একদিন ধরে আকাশের মুখ ভার। মেঘ জমছে। ব্যাস, ওইটুকুই। দিনের বেলায় সব ফাকা। ঝলমলে রোদ। আর তার সাথে তাপ প্রভাব। রোদে ঘামতে ঘামতে বাইরে বের হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। উপায় নেই তাদের। কারণ, পেট তো মানে না। কাজে যেতেই হয়। চৈত্র মাসের প্রায় শুরু থেকেই গরম বাড়তে থাকে। বৈশাখ মাস পড়তে না পড়তেই হাঁসফাঁস গরমে কাবু দক্ষিণ ২৪ পরগনার কর্মজীবী মানুষ থেকে সাধারণ মানুষ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে ভিড় উপচে পড়ছে ঠান্ডা পানীয় দোকানে। বাদ যাচ্ছে না আখের রস ও তরমুজের দোকান গুলো। প্যাচপ্যাচে গরম থেকে সাময়িক রেহাই পেতে দিনের বেলায় সাধারণ মানুষ ঠান্ডা পানীয় খেয়েই স্বস্তি নিচ্ছেন। আর তাছাড়াও রাস্তায় সূর্যের প্রখর রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ও রোদচশমা তো আছেই। সব মিলিয়ে বৈশাখ মাসেই গরম জমজমাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থেকে কবে রেহাই মিলবে সেই ভাবনাতেই চাতক পাখির মতো দিন গুনছে সাধারণ মানুষ।
{link}
মৌসম ভবন জানিয়েছে, এই তাপপ্রবাহ কখনও কখনও প্রাণঘাতীও হতে পারে। কোনও একটি সমভূমি এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে গেলে অথবা পাহাড়ি এলাকার ক্ষেত্রে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে গেলে তাপপ্রবাহ বলে ধরা হয়ে থাকে। অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে মোটামুটি ৫ ডিগ্রি বেশি থাকলে তাকে তাপপ্রবাহ বলেই ধরা হয়। এখনই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই সেকথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এদিকে তাপদাহ প্রবাহের জন্য কৃষিজমি গুলির সমস্ত সবজি,ফসল নষ্ট হতে শুরু করেছে। তাই আপাতত বৃষ্টির আশায় চাতক পাখির মতন আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দক্ষিণবঙ্গের মানুষ।
