সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ মোবাইলে আসক্তি। বাড়ি থেকে ফোন কেড়ে নেওয়ায় আত্মঘাতী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের গোয়ালবাড়ি এলাকায়। মৃত ছাত্রীর নাম রিমি ঘোষ। জানা যায়, ভোজেরহাট সারদা বিদ্যাপিঠের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল সে।
{link}
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোবাইল নিয়ে ব্যাস্ত ছিলো রিমি। বারবার পড়ার কথা বললেও মায়ের কোন কথায় কর্ণপাত করছিলো না সে। শেষে বকাবকি করায় নিজের ঘরে চলে যায় ওই ছাত্রী। এরপর রাতে খাওয়ার কথা বলতে গেলে তাকে নিজের ঘরেই ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার মা। পরে এলাকার সাধারণ মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে কাশিপুর থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে জিরানগাছা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুধবার সকালে কাশিপুর থানার পুলিশ মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ওই ছাত্রীর পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন স্কুল ছুটি থাকায় বাড়িতে বসে মোবাইল নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতো রিমি। মোবাইল কিনে দেওয়ার জন্য বারবার জোর করত সে। একবছর আগেই তার বাবা তাকে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দেন। তারপর থেকেই সে সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পরে থাকত। গেম খেলতো। বাবা-মা নিষেধ করলেও শুনতো না।
{link}
স্কুল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বাড়িতে সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যাস্ত থাকছে ছোট থেকে বড় শিক্ষার্থীরা। তার কারণেই প্রত্যেকদিন মোবাইলের প্রতি আসক্তি বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। আর সেকারণেই মোবাইল না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে শহর থেকে শহরতলীর ছাত্র ছাত্রীরা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তাই বলে কি ঝড়ে যেতে থাকবে একটার পর একটা প্রাণ? মোবাইল আসক্তি থেকে সন্তানদের বের করতে সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের।
