সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ বর্ষা আসার সাথে সাথেই শুরু হয়ে গিয়েছে ইলিশের মরসুম। কিন্তু এবার ভরা আষাঢ়েও জালে উঠছে না ইলিশ। অন্য বছর এই সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপোলি শস্যে ভরা থাকলেও এ বার ঠিক তার উল্টো ছবি ধরা পড়ছে। মরসুমেও ইলিশ ধরতে না পারায় বেজায় সমস্যায় পড়েছেন মৎস্যজীবীরা। ইলিশ ধরতে যে ট্রলারগুলি সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল, কার্যত ইলিশ শূন্য হাতেই ফিরে আসতে হচ্ছে তাদের। এ বছর কেন এমনটা হচ্ছে, সেটা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না মৎস্যজীবীদের একাংশ। তাদের আশা, আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণে বৃষ্টি বাড়লে হয়তো জালে ভাল ইলিশ ধরা পড়বে।
{link}
প্রজনন ঋতুতে মায়ানমারের ভিটে ছেড়ে উজান বেয়ে বঙ্গের নদীতে চলে আসে ইলিশ। তবে ইলিশের আগমন নির্ভর করে নদী ও সমুদ্রের লবণের পরিমাণের উপর। সমুদ্র বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী ও সমুদ্রে লবণের পরিমাণ যত কমবে, ততই মোহনার দিকে এগিয়ে আসবে ইলিশ। তবে এর জন্য সমুদ্রে পূবালি বাতাস থাকাও জরুরি। এ বছর দক্ষিণবঙ্গে তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় সমুদ্রের নোনা ভাব কাটেনি। যার ফলে সমুদ্রের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ইলিশের ঝাঁকের দেখা মিলছে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নদীতে ইলিশ তেমন ধরা না পড়লেও বাংলাদেশের নদ-নদীতে এত ইলিশ ঢুকছে কী ভাবে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বাংলাদেশের নদ-নদীতে নোনা ভাব খানিক কেটে যাওয়ায় বহু ইলিশ ঢুকেছে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও হুগলি নদীতে ইলিশের দেখা নেই। তার কারণ, ওই নদীতে পলি জমতে থাকায় নদীতে ঢোকার সময় বাধা পাচ্ছে ইলিশের ঝাঁক। এ ছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত ‘ফিশিং’ একটা বড় কারণ বলেই মনে করছেন মৎস্যজীবীরা।
{link}
তাদের দাবি, প্রয়োজনের অধিক মাছ ধরায় অনেক সময় ওড়িশা উপকূলের দিকে চলে যায় ইলিশ। এ বিষয়ে এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, ইংলিশের মরশুমে এখন বাজার শূন্য। কবে ইলিশ আসবে তাও জানেননা। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র জানান, ইলিশের আদর্শ পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। বৃষ্টির পরিমান বাড়লে সমুদ্রে লবন ভাব কেটে যাবে। মিষ্টি জলে ইলিশ আসবে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ও পূবালী বাতাস ইলিশের আদর্শ পরিবেশ। আশা করা যাচ্ছে এবার ইলিশ পাওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, আড়াই থেকে তিন হাজারের বেশি ট্রলার নামানো যাবে না সমুদ্রে। তবেই সাগর আর হুগলি নদীর মোহনায় আবার ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মিলবে।
