নিজস্ব সংবাদদাতা,শিলিগুড়িঃ কাজ তো করতেই হবে,কাজে না গেলে খাবো কি? তাই নিজের একমাত্র ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিষ্ঠুরের মতো চোখের জল ফেলতে ফেলতে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে কাজে যেতে হয় মা কে। শিলিগুড়ি সংলগ্ন এন,জে পি থানার অন্তর্গত শান্তি পাড়ার এই ঘটনা।
{link}
হতভাগ্য মায়ের নাম পিঙ্কি রায়। লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ করে কোনরকমে সংসার চলে তার। জানা গেছে, ১৩ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাড়িভাষা এলাকার বাসিন্দা লালু রায়ের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পরেই এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় প্রলয় রায়। জন্মের পর স্বাভাবিকই ছিল প্রলয়। কিন্তু ধীরে ধীরে সে বড় হতে থাকলে তার অস্বাভাবিক আচরণ প্রকাশ হতে থাকে। তার নিজের পরনের জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। নিজেই নিজের শরীরে কামড় দেয়। বাড়ির বাইরে গেলে অন্যান্য বাচ্চাদের কেও কামড় দেয়। এক সময় প্রলয়ের ভয়ে কেউ বাড়ির বাইরে বের হতেই ভয় পায়। আর তখনই শশুর বাড়িতে এ নিয়েই শুরু হয় অশান্তি। এর কিছুদিন পরেই ভারসাম্যহীন ছেলে ও মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় স্বামী সহ শশুর বাড়ির লোকজন। তারপর থেকেই ছেলেকে নিয়ে উঠে গেছেন বাপের বাড়িতে। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা। লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ করেই কোনোরকমে সংসার চলে।
{link}
অবশেষে ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে অসহায় মা পিঙ্কি। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করা হয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। চিকিৎসকরা বলেছেন,দক্ষিণ ভারতের বড় কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করালে ছেলে হয়তো সুস্থ হতে পারে। কিন্তু এই অসহায় মা কিভাবে যাবেন দক্ষিণের সেই বড় হাসপাতাল গুলিতে। কারন তিনি যে ভীষণ অসহায়। তিনি ভীষণ নিঃস্ব। তাই তিনি জনগনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
