নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: বিশ্বকর্মা পুজো দেখতে সকালে এক বান্ধবীর সঙ্গে বাড়ি থেকে স্কুটি নিয়ে বেড়িয়েছিল এক পড়ুয়া। কিন্তু রাতে বাড়ি ফেরার পথে একদল যুবকের লালসার শিকার হয় ওই পড়ুয়া এমনটাই অভিযোগ তাঁর পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নানুর থানা এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার পর বাড়ি ফিরে ওই পড়ুয়া অপমানে গলায় ওড়না লাগিয়ে আত্মঘাতী করার চেষ্টা করেন।
{link}
স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই পড়ুয়া বীরভূম জেলার নানুর থানা এলাকার বাসিন্দা। বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। কষ্টের মাঝে কোনওরকম সংসার চলে তাঁদের। নির্যাতিতার পরিবার সুত্রে জানা যায়, এলাকায় বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে জমজমাট মেলা চলছিল। রবিবার সকালে নিজের স্কুটি নিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে সেই মেলা দেখতে গিয়েছিল পড়ুয়া। অভিযোগ, রাতে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় তাঁর পথ আটকায় চারজন অজ্ঞাত পরিচয় যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা অজ্ঞান করে ফেলে ওই ছাত্রীকে। এরপর টানতে টানতে তাঁকে নিয়ে যায় ফাঁকা নির্জন জায়গায়। সেখানেই তাঁর স্কুটি এবং তাঁকে ফেলে রেখে চলে যায় তাঁরা। সকালে জ্ঞান ফিরতে ছাত্রী দেখতে পায়, তার শরীরের একাধিক জায়গায় ক্ষত চিহ্ন দিয়ে চুঁইয়ে পড়ছে রক্ত। জামাকাপড় ছেঁড়া। কার্যত অসহায় অবস্থায় মোবাইল এবং স্কুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে ওই পড়ুয়া। বাড়ি ফিরে পরিবারকে গোটা বিষয়টি জানানোর পর অপমানে গলায় ওড়না লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করে ওই ছাত্রী। বাড়ীর লোক দেখতে পেয়ে কোনও মতে প্রাণে বাঁচায় তাঁকে।
{link}
এরপর তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় বোলপুর মহকুমা সিয়ান হাসপাতালে। আপাতত সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ওই ছাত্রী। ছাত্রীর মা জানান, তাঁদের আশঙ্কা মেয়ের সঙ্গে খারাপ কিছু হয়েছে। সকালে যখন ও বাড়ি ফেরে তখন ওর জামাকাপড় অজস্র জায়গায় ছেঁড়া ছিল। রক্তাক্ত ও ছিল শরীর। তবে কারা তাঁর সঙ্গে এসব করেছে তা মনে করতে পারছে না ওই ছাত্রী। এই ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তে পুলিশ।
