নিজস্ব সংবাদদাতা,দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের দিকে একটু একটু করে এগিয়ে চলছে প্রতিবন্ধী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মগরাহাটের বাপি ফকির। তার স্বপ্ন শিক্ষক হওয়ার। জন্ম থেকেই নানা সমস্যার জন্য হাঁটতে চলতে অক্ষম বাপি। কিন্তু জীবনের সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে সে।
{link}
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের ডিহিকল সুড়িপুকুর গ্রামের বাসিন্দা বাপি ফকির। কলস হাইস্কুলের কলা বিভাগের ছাত্র সে। প্রতিবন্ধী হওয়ার সত্ত্বেও কোনো রাইটার না নিয়েই সে বেঞ্চে শুয়ে সাবলীলভাবে এবারে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কে হারিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৩১২ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল বাপি। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তাই নিজেই নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে লেখাপড়ার পাশাপাশি জাল তৈরি কাজও করে। বাবা শাহজাহান পেশায় দিনমজুর। পাঁচ ভাই বোনের বড় সংসার। বাপি হল বড় ছেলে। মা সেরিনা বিবি বলেন, বাপি ছোট থেকেই প্রতিবন্ধী। হাঁটতে চলতে পারে না। বহু চিকিৎসা করেও আর সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। অন্যান্য ছেলেরা এইরকম অবস্থায় মনোবল হারিয়ে ফেলে। কিন্তু বাপি নিজের মনোবল না হারিয়ে নিজের এই প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে এগিয়ে চলার লক্ষ্য স্থির করেছে। অভাবের তাড়নায় নিজেদের দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাতে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষক থেকে গৃহশিক্ষক অনেকেই বাপির এই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছে। তার স্বপ্ন ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু ব্যয়বহুল পড়াশোনার খরচ কিভাবে আসবে তা জানা নেই তার পরিবারের।
{link}
বাপি জানিয়েছে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোন বাধা হয়না। মনের জোরকে হাতিয়ার করেই সে তার স্বপ্ন পূরণ করবে। মাধ্যমিকের পর থেকেই তার পড়াশোনা সহ সমস্ত খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন উস্তির এক স্কুল শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস। বাপি আরও জানায়, উচ্চমাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষা খুবই ভাল হয়েছে। ১৬ এপ্রিল ইতিহাস পরীক্ষা রয়েছে। সেটাও ভালো করার জন্য দিনরাত এক করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে। আগামী দিনে সে শিক্ষক হয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে হাজার হাজার প্রতিবন্ধী বাপির স্বপ্নপূরণ যাতে করতে পারে সেই দিকেই তার লক্ষ্য। জীবনযুদ্ধে বাপির এহেন প্রচেষ্টা কে কুর্ণিশ জানায় শেফিল্ড টাইমস।
