নিজস্ব সংবাদদাতাঃ শুক্রবার সকালেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও বর্তমান শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে হাজির হয়েছিল ইডি। রাত পর্যন্ত দফায় দফায় চলে জিজ্ঞাসাবাদ। উদ্ধার হয় বেশ কিছু নথি। তারই সূত্র ধরে ইডি জানতে পারে, পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতার কথা। তারপরেই অর্পিতার বাড়িতে হানা দেয় ইডির আধিকারিকরা। যার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ২০ কোটি টাকা! এছাড়াও উদ্ধার ২০টি মোবাইল ফোন। ইডি সূত্রের দাবি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যোগ রয়েছে এই টাকার।
{link}
প্রায় সারা রাত ধরে ব্যাঙ্ক অফিসারদের সাহায্য নিয়ে গোনা হয়েছে উদ্ধার হওয়া টাকা। দিনভর চলে ইডির ম্য়ারাথন তল্লাশি। জানা যায় বিকেল গড়াতেই ইডির (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর) তল্লাশিতে অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে এই বিশাল অঙ্কের টাকা। ইডি সূত্রের খবর, শুক্রবার পার্থর বাড়ি ছাড়াও রাজ্যের ১৪টি জায়গায় এদিন হানা দিয়েছিল কেন্দ্রের এই তদন্ত সংস্থার মোট ৭৫ জন অফিসার। সাতসকালে ইডি সেইসব প্রভাবশালীর বাড়িতে হানা দিয়েছিল যাদের নাম বিভিন্ন সময় নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় উঠে এসেছিল। শুক্রবার পার্থ ছাড়াও যাদের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালিয়েছে তারা হলেন, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর জামাইয়ের মামা কৃষ্ণচন্দ্র অধিকারী, পার্থ বাবুর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী, চন্দন মন্ডল, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য, এসএসসির তিন প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তি প্রসাদ সিংহ, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় ও সমরজিৎ আচার্য, প্রাথমিকের সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচী, শিক্ষা দফতরের প্রাক্তন অধিকর্তা এ কে সরকার এবং এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার। তবে সবকিছু ছেড়ে প্রশ্ন হল কোথা থেকে এল এই বিশাল অঙ্কের নগদ টাকা? ২০টি মোবাইলই বা কী কাজে ব্যবহার করা হত সে বিষয়ে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। তবে এই টাকা উদ্ধারের সঙ্গে শাসক দলের কোন সম্পর্ক নেই বলেই শুক্রবার রাতে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ট্যুইট করে জানিয়ে দিয়েছেন।
{link}
এদিকে দিনভর এত কান্ডের পরেও সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন,” এই প্রতিহিংসায় দলের নেতাদের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হলে তার দায় নিতে হবে এজেন্সিকে। এবার আমরা তা মেনে নেব না।" কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যারা চাকরি পেলেন না, যারা বঞ্চিত হল এই চাকরি থেকে, যারা আজও চাকরির দাবিতে রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আজও রাস্তায় তারা অসুস্থ হলে তার দায় কারা নেবে? একথা তো চন্দ্রিমা ম্যাডাম আপনি তো বললেন না? চাকরি প্রার্থীদের অপরাধ টা কী? তারা গরিব ঘরের সন্তান। এছাড়াও চন্দ্রিমার মন্তব্য, বিজেপি ভয় পেয়েই রাতারাতি এই অভিযান শুরু করেছে। তাই যদি হয় তাহলে আপনারা সিজিও কমপ্লেক্স ঘেরাও করছেন না কেন? পার্থ ঘনিষ্ঠের বাড়িতে কোটি কোটি টাকার খোঁজ মেলায় ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। এ বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “রাজনৈতিক মনোভাবে সিবিআই ইডি কাজ করে, এটা ঠিক। আবার এটাও ঠিক যে, হাজার হাজার তৃণমূল নেতা কর্মী, যারা দলের হয়ে কাজ করেন তাদের সকলের বাড়িতে ইডি যায়নি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বাড়িতেই গেছে। যদি আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সব থেকে থাকে তাহলে, তাহলে মাথা উঁচু করে ওরা সেটা দেখিয়ে দিন।“ শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ ইডির ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে একটি টুইট করে জানানো হয় টাকা উদ্ধারের খবর। ট্যুইটে লেখা হয়, ‘’পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।‘’ সঙ্গে স্তুপাকার নগদ টাকার ছবি ও পোস্ট করা হয়েছে ইডির তরফে।
