নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ “রাজ্যে তোষণের রাজনীতি চলছে। প্রতিনিয়ত আমাকে নতুন নতুন নামে ডাকে এরা। কয়েকদিন আগে আমাকে এরা নাম দিয়েছে দাদামনি। তাই এবার থেকে আমি কয়লা ভাইপোর মত পিসি মনি বলে ডাকবো।“ বুধবার দক্ষিন ২৪ পরগনার নামখানার সাত মাইল বাজারের জনসভাতে এসে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
{link}
এই দিনের সভা থেকে তিনি বলেন, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি গোটা দক্ষিন ২৪ পরগনাকে তোলা বাজি করে শেষ করে দিয়েছেন। কয়েক দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন রাজ্যের যদি ১৭ হাজার চাকরি প্রার্থীদের চাকরি বাতিল হয়,তাহলে শুভেন্দুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যদি তার বাড়িতে ১৭ হাজার চাকরি প্রার্থীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাহলে রাজ্যের ২ কোটি বেকারকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেবেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সাগরের বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরার একাধিক আত্মীয়রা চাকরি পেয়েছেন। অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে এই রাজ্যে অনুপ্রবেশ ঘটেছে আর মুখ্যমন্ত্রী নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে তাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছেন। শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছে ও আগামী দিনেও লড়বে। কয়েকদিন আগে সিবিআইয়ের এক আধিকারিকের বিরূদ্ধে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিষ্ণুপুর থানায় আভিযোগ করা হয়। এবার সেই বিষয়ে মুখ খুললেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগ আগেও হয়েছে। তিনি সিবিআইকে আইনি লড়াই লড়তে পরামর্শ দেবেন। এই রকম অভিযোগ বারেবারে শুধু ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের থানা গুলিতেই হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, তপশিলি উপ জাতির এক মহিলাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচন করে মোদীজি একটি ভালো কাজ করেছেন। মোদীজি প্রমাণ করে দিয়েছেন সব ধর্ম ও সব জাতির উপর বিশ্বাস ও ভরসা আছে।
{link}
অন্যদিকে তিনি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসীদের সঙ্গে ছবি তুলছে গ্লাভস পরা অবস্থায়। বৈষম্যের তারতম্য সব জায়গায়। নবান্নে শোভন-বৈশাখীর যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, তিনি এসব কিছুই জানেন না। ওনাদের সব কিছু হতে পারে। যত চোর তৃণমূলে। তার দাবি তৃণমূলে সবাই চোর। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতামত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বিরোধী দলনেতার এই জনসভা থেকে বাড়তি অক্সিজেন পেলো বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।
