নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ রাস্তার পাশেই বিশাল বাগান বাড়ি। বাড়ির মধ্যে একটি পুকুরও রয়েছে। যে পুকুরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী নাকি ছিপ দিয়ে মাছ ধরতেন। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা(ইডি) পার্থ ও অর্পিতার নতুন সম্পত্তির খোঁজ পেল বারুইপুরে। বারুইপুর বেগমপুরের পুঁড়ী এলাকায় এক বাগান বাড়ির হদিশ পেয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকেরা। যেখানে প্রায়ই যাতায়াত ছিল অর্পিতার এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় সময় যত এগোচ্ছে ততই অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নতুন নতুন সম্পদের খবর উঠে আসছে। তবে এই বাড়ি অর্পিতার নামে, নাকি পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা তার মেয়ের নামে, তা স্পষ্ট করেননি বাসিন্দারা।
{link}
ইডি সূত্রের খবর, এই বাগানবাড়ির যাবতীয় দেখাশোনা করেন তৃণমূলের স্থানীয় স্তরের এক দাপুটে নেতা। এই বাড়িতে অর্পিতা কখন আসেন, কতক্ষণ থাকেন, সঙ্গে কে কে আসেন এই নিয়েই এখন সরগরম বেগমপুর। চায়ের দোকান থেকে বাজারহাট, সর্বত্রই চর্চার কেন্দ্রে ওই বাগানবাড়ি আর পার্থ-অর্পিতা। কেন এই বাড়িতে অর্পিতার যাতায়াত বেড়েছিল, তা নিয়েও ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। বারুইপুরের বেগমপুর পঞ্চায়েতের কাটাখাল-উত্তরভাগ বাইপাসে পুড়ি এলাকায় রাস্তার একেবারে পাশেই অবস্থিত এই বাগানবাড়ি। গেটের পাশে ফলকে জ্বলজ্বল করছে বাগান বাড়ি ‘বিশ্রাম’ এর নাম। দোতলা এই বাড়িতে বিশ্রাম নিতে আসতেন মন্ত্রী ও অর্পিতা। বাড়ির পিছনেই রয়েছে পুকুর। পাশে বিরাট বাগান। বাগানবাড়ির পাশে রয়েছে একটি সুসজ্জিত পিকনিক স্পট। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বাগান বাড়ির পুকুরে মাঝেমধ্যে অর্পিতাকে মাছ ধরতে দেখা গিয়েছে। শখ করেই ছিপ নিয়ে পুকুরপাড়ে বসতেন তিনি। মাঝেমধ্যে পিকনিক স্পটেও যেতেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বারুইপুরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কোনও অনুষ্ঠান থাকলে সঙ্গে আসতেন ওই মহিলা। তখন তারা দুজনেই উঠতেন এই বাগানবাড়িতে। সঙ্গে থাকত বেশ কয়েকটি গাড়ি। মূলত বিকেল ও রাতে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে ফিরে যেতেন তাঁরা। দলের অনেক নেতা-কর্মীও সঙ্গে আসতেন তাঁদের। বাসিন্দাদের কথায়, অর্পিতাকে কখনও কখনও স্থানীয় চায়ের দোকানেও চা খেতে দেখা গিয়েছে।
{link}
স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই বললেন, বারুইপুরের একটি স্কুলে একবার সরস্বতী পুজোর দিনে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এসেছিলেন অর্পিতাকে নিয়ে। সেবার তাঁরা খিচুড়ি ভোগ খেয়েছিলেন। এমনকী, শাসন বাইপাসের ধারে একটি পিকনিক স্পটেও এসেছিলেন এই মহিলা। সেই সময় অনেকেই তাঁকে দেখেছিলেন। ওই বাগান বাড়ির সত্যতা উন্মোচনে এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকের। এছাড়াও জেলা জুড়ে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে পার্থ ও অর্পিতার এমনটাই মনে করছেন ইডির আধিকারিকেরা। এইদিন তদন্তের স্বার্থে ডায়মন্ড হারবারে হানা দেয় ইডি। ডায়মন্ড হারবারের ৭৬ বাস স্ট্যান্ডে বেশ কিছু সুস্বাদু খাবারের হোটেলেও তারা হানা দেয় বলে জানা যায়। আপাতত পার্থ ও অর্পিতার রহস্যের উন্মোচন করতে মরিয়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।
