নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়াঃ এসএসসি নিয়ে তদন্ত যতই বাড়ছে ততই সামনে আসছে শাসক দলের তাবড় তাবড় নেতাদের কুকীর্তি। পরেশ অধিকারী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত তৃণমূলের বড় মাপের নেতাদের নামও জড়িয়েছে এই দুর্নীতির জালে। শাসক দলের নেতাদের এই দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং রাজ্যে সরকারি শূন্যপদে অবিলম্বে কর্মী নিয়োগের মত একাধিক দাবি নিয়ে বুধবার হাওড়ায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলেন সিপিআইএম এর কর্মীরা।
{link}
এদিন হাওড়া স্টেশনের সামনে থেকে হুগলি ও হাওড়া জেলার বামফ্রন্টের কর্মীরা একত্রিত হয়ে মিছিল করেন ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির উদ্দেশ্যে। এই গান্ধী মূর্তির নীচে প্রায় ৫০০ দিন ধরে চাকরিপ্রার্থীরা রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। তাদেরই সমর্থনে পার্ক সার্কাস, শিয়ালদহ স্টেশন ও হাওড়া স্টেশন— এই তিন দিক থেকে সিপিআইএম এর তিনটে মিছিল গিয়েছে সেখানে। এদিন সিপিআইএম কর্মীদের মূলত দাবি ছিল সরকারি শূন্যপদে স্বচ্ছতার সাথে অবিলম্বে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রীসভার মুখ্যমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ চাই বলেও তারা দাবি করেন।
{link}
প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতার বাড়িতে ইডি হানা দেওয়ার পরেই এসএসসির দুর্নীতির সংক্রান্ত নানা তথ্য পাওয়া যায়। তলব করা হয় মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের। বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হয় কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। ইডির তথ্য অনুযায়ী পার্থের মোট সম্পত্তির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াতে পারে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা। যার সিংহভাগ টাকা চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বলেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অনুমান। এরকম দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসার পরেও দিনের দিন যারা চাকরির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তাদের দিকে কেন সরকার তাকাচ্ছে না সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন? কিছু দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী বঙ্গ বিভূষণের মঞ্চ থেকে বলেছিলেন রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের জন্য তিনি পদ আরও বাড়িয়েছেন। কিন্তু সেই সমস্ত পদে যোগ্য প্রার্থীদের কবে স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ করা হবে তার উত্তর খুঁজতেই আজ রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল ব্রামফ্রন্ট কর্মীদের।
