যেন এক ঝড় উঠেছিল, সেই ঝড়েই গা ভাসিয়েছিলেন একের পর এক বাংলার দুঁদে তৃণমূলের রাজনীতিবিদ। একটার পর একটা নাম যোগ দিতে শুরু করেন গেরুয়া শিবিরে। শেষ পর্যন্ত খেলার শেষে মানুষ আস্থা রাখেন ঘাসফুলেই। যার ফলে কার্যত দলবদলুদের কাছে একূল ওকূল দুকুলই ডুবেছে। এর পরেই আবার পুরোনো দলে ফিরতে চেয়েছেন বেশ কয়েকজন বড়ো নাম। যেমন তৃণমূলে ফিরতে চান বিজেপিতে যাওয়া সোনালি গুহ। তবে তাঁর ফেরার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ স্বয়ং। শুধু সোনালি নন, দলবদলু আরও যাঁরা ঘরে ফিরতে চান, তাঁদের ফেরার পথেও বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন কুণাল।
{link}
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে আরও অনেকের মতোই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন সোনালি গুহ। সেখানেও টিকিট মেলেনি। বিজেপি সূত্রের খবর, দলেও জায়গা পাননি তিনি। অগত্যা পুরানো দলেই ফেরার সিদ্ধান্ত নেন সাতগাছিয়ার তিনবারের বিধায়ক। দলে ফিরতে চেয়ে গতকাল, শনিবার আবেগঘন একটি টুইট করেন সোনালি। তাতেই তৃণমূলে ফেরার ইচ্ছে প্রকাশ করেন তিনি।
সোনালির ঘরওয়াপসির খবর পেয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, শুধু সোনালি গুহ নন, যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন এমন অনেক নেতাই আবার তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন। কিন্তু একটা কথা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, যে নির্বাচনের মুখে যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর খেলায় মেতেছিলেন, তাঁদের পুনরায় দলে ফিরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, যদি উল্টো ফল হত, তাহলে এখন যাঁরা কান্নাকাটি করছেন, তাঁরা কি এই প্রতিক্রিয়া দেখাতেন? বা ফেরার কথা বলতেন! তবে পুরো বিষয়টিতে যে তৃণমূল নেত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন তাও জানান কুণাল।
{link}
কুণালের এহেন প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি সোনালি। তিনি শুধু চাইছেন, যে কোনও প্রকারে ঘরে ফিরতে। ফের ‘দিদির আঁচল’-এর তলায় থাকতে। কিন্তু এখন কি তাকে আবার দলে ফিরিয়ে নেবেন দিদি? তাহলে বেশ কিছুটা ভাবমূর্তি নষ্ট হবে না তো ঘাসফুলের? প্রশ্ন সেখানেই…
