নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্কের রেষ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে তোলাবাজির অভিযোগ। সরকারী প্রকল্পের বাড়ী তৈরি করার নামে তোলাবাজির মত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেত্রী রীনা দাসের বিরুদ্ধে। যার ফলে রীতিমতো অস্বস্তিতে শাসক দল তৃণমূল। বুধবার কাঁথি হাসপাতালের মত গুরুত্বপূর্ণ রোড অবরোধ করে কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে কাঁথি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে রাস্তা অবরোধ তুলে দেন।
{link}
স্থানীয় সূত্রের খবর, রীনা দাস কাঁথি পুরসভা ৬ নং ওয়ার্ড়ের তৃণমূলের জয়ী কাউন্সিলর। এবারের পুরভোটে কাঁথি পুরসভার উওর কাঁথির বিধায়ক সুমিতা সিনহাকে হারিয়ে তিনি জয়লাভ করেন। এদিন বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তৃণমূলের কাউন্সিলর তাদের কোনো সহযোগিতা করছেন না। বাড়ি দেওয়ার নাম করে এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে তিনি ৩০-৪০ হাজার টাকা চাইছেন। ভোটে জেতার পর থেকে এক দিনও ওয়ার্ড়ে যাননি বলেও অভিযোগ। এছড়াও তাদের আরও অভিযোগ, তৃণমূল নেত্রী এলাকায় গিয়ে ধমক দিয়েছেন, যারা মিটিংএ যায়নি তাদেরকে কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না। কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এইরকম একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় কাঁথি হাসপাতাল রোডের সামনে শতাধিক কর্মী সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করে বসে পড়েন। তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন অবরোধকারীরা। রাস্তা অবরোধের ফলে রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। আটকে পড়ে হাসপাতালে যাওয়া একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও পথচারীরা। এরপর কাঁথি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এ বিষয়ে এগরার বিধায়ক তথা কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তরুণ কুমার মাইতি বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন।
{link}
তবে কাউন্সিলর রীনা দাস পুরো বিষয়টিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগ তুলে সকলে সরব হয়েছেন। তাকে কালিমালিপ্ত করার জন্যই এমন চক্রান্ত। এই ঘটনার তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধী দল বিজেপিও। কাঁথি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান সৌমেন্দু অধিকারী বলেন, এরা জনগণের ভোটে জেতেননি। জনগণের কাছে এদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। তাই নিজেদের আখের গোঁছাতে নেমে পড়েছেন। সর্বত্র কাঠমানি আর কাঠমানি। কাঁথিও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই এবার কাঁথির মানুষ বুঝুক। গত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পূর্বে কাউন্সিলর রীনা দাস কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। সাম্প্রতিক কয়েকদিন আগে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিক্ষোভ সমাবেশে জাতীয় সঙ্গীত ভুল পরিবেশন করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তিনি। তোলাবাজির অভিযোগে নতুন করে তিনি আবার খবরের শিরোনামে।
