নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃপার্থর সাম্রাজ্য যে শুধুমাত্র কলকাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না তার প্রমাণ মিলছে গত শুক্রবার থেকে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তেই ছড়িয়ে রয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিশাল সম্পত্তির জাল। টাকার শৈল্য, গয়নার ভান্ডার, বিদেশী মুদ্রা, একাধিক আবাসন এবং বাগান বাড়ির পর এবার পার্থর সাম্রাজ্যের তালিকায় যুক্ত হল পাঁচতারা হোটেল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতে একাধিক জমি সহ হোটেল রয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারী সংস্থার (ইডি) আধিকারিকেরা।
{link}
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার ,বারুইপুর, ভাঙড়, সহ বিভিন্ন জেলার প্রান্তে রয়েছে পার্থের জমি ও সম্পত্তি। এবার সামনে এল রহস্যে মোড়া সুন্দরবনের দুটি হোটেল। একটি নিউ সুরঞ্জনা এবং অন্যটি হলো নিউ রয়েল বেঙ্গল। সুন্দরবনের সজনেখালি জঙ্গলের বিপরীতে অবস্থিত দয়াপুর। এই এলাকায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাইয়ের হোটেল নামে পরিচিত এই দুটি হোটেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হোটেল দুটিতে মাঝেমধ্যে যাতায়ত ছিল মন্ত্রীরও। কোটি কোটি টাকা খরচা করে হোটেলটি বানানো হয়েছে দয়াপুরের এলাকাতে। হোটেলে রয়েছে সুইমিং পুল অডিটোরিয়াম সহ অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। কলকাতার এক ব্যবসায়ীর নামেই পরিচালিত হয় এই হোটেল। তবে এলাকার মানুষজন জানেন এটা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাইয়ের হোটেল। পিকে রায় নামে জনৈক এক ব্যক্তি এই হোটেল দুটির পঞ্চায়েতের ট্যাক্স থেকে শুরু করে সরকারি কাগজপত্র জমা করেন। কিন্তু এই হোটেল মুখ খুলতে নারাজ এলাকাবাসী।
{link}
জানা যায়, হোটেলের মধ্যে রয়েছে কুড়িটি কটেজ আর শতাধিক রুম। এখানেই শেষ নয়। জেলার কোনায় কোনায় রয়েছে পার্থর সম্পত্তি এমনটাই মনে করছে ইডি। রহস্যময় হোটেলের কথা সামনে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। জয়নগর বিজেপি সাংগঠনিকের জেলা সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সর্দার জানান, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর উচিত এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা। তারই মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের ধন-সম্পত্তি উদ্ধার করছে তদন্তকারী সংস্থা। মুখ্যমন্ত্রী এখনও চুপ কেন? তবে এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সদস্য অনিমেষ মন্ডল বলেন, এখনও তদন্ত চলছে। এই প্রশ্নের উত্তর ইডি ও সিবিআই দিতে পারবে।
