নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ বেশ কয়েক দিন আগে বাতিল হয়েছে ২৬৯ জন প্রাইমারি শিক্ষকদের চাকরি। তারই মাঝে চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠলো কোলাঘাটের তৃণমূল নেতা অতনু গুছাইতের বিরুদ্ধে। যার জেরে রবিবার তৃনমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখালো প্রতারিত ব্যক্তিরা।
{link}
অভিযোগ, কোলাঘাট সহ বেশ কয়েকটি এলাকার যুবক যুবতীদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তোলেন অতনু ও তার ভাই শান্তনুর। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে চাকরির টাকা তুলতেন অতনু ও শান্তনু এমন টাই অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। বার বার তার বাড়িতে গিয়ে বা ফোন করেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তৃনমূল নেতা অতনু গুছাইতের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তারা। জানা যায়, অভিযুক্ত ওই নেতা বছর দেড়েক কোলাঘাট থেকে বেপাত্তা। এই দিন বেশ কিছু প্রতারিত ব্যক্তিরা কোলাঘাটে তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি করেন ও তাদের টাকা ফেরতের দাবী জানান। জানা যায় ২০১৭ সালে কোলাঘাটের বেশ কিছু যুবক যুবতীদের এস এস সি, গ্রুপ ডি, এবং প্রাথমিকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। যার বিনিময়ে তিনি মোটা টাকা নিয়েছেন প্রার্থীদের কাছ থেকে। কিন্তু তারপরই কোলাঘাটের বহু যুবক যুবতী চাকরির জন্য টাকা দিয়ে প্রতারিতও হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, কারো কাছে ১২ লাখ , কারো কাছে ৫ লাখ, বা কারো কাছে ১০ লাখ টাকা নিয়ে বেপাত্তা হয়ে যান কোলাঘাটের তৃনমূল নেতা। এরপর দিনের পর দিন চাকরী না পেয়ে অতনু বাবুর সাথে যোগাযোগ করার পরেও কোন ভাবে তিনি সাক্ষাত করেননি। তবে জানা যায় বেশ কয়েক মাস তিনি এবং তার বাড়ির লোক বাড়ি বেপাত্তা। বাড়ি রয়েছে তালা দেওয়া অবস্থায়। তাই অবশেষে রবিবার তার বাড়ির সামনে এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন প্রতারিত ব্যক্তিরা।
{link}
যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবী, আগে তিনি পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর দলের সঙ্গে অতনু বাবুর কোন যোগাযোগ নেই। অনেক দিন আগেই তিনি দল ছেড়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তাই তার অবশ্যই শাস্তি হোক বলেন কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরজিৎ মান্না। তবে বিজেপি নেতা দেবব্রত পট্টনায়েক জানান, অতনু, শান্তনুর মতো আরও অনেক নেতা ঘুরে বেড়াচ্ছেন কোলাঘাটে। যিনি মূল অর্থ নিয়েছেন চাকরীর নামে তার নাম অতনু বাবুরা প্রকাশ করুক। তবে আদৌ টাকা ফেরত পাবেন কিনা প্রতারিতরা সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
.jpeg)
