নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: মহাপীঠ তারাপীঠের মতোই বোলপুরের কঙ্কালীতলা সতীপীঠও অমাবস্যার বিশেষ তিথি কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে সেজে উঠেছে। এই বিশেষ অমাবস্যার দিনটিতে কঙ্কালীতলায় আসতে শুরু করেন দূর-দূরান্তের ভক্ত থেকে শুরু করে সাধু-সন্ন্যাসীরা। আজকের দিনের জন্য স্থানীয় কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে মন্দির সংলগ্ন চত্বর বিভিন্ন লাইট দিয়ে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
{link}
মন্দির চত্বরে ও পার্শ্ববর্তী জায়গায় পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভক্তদের সুবিধার্থে ভোগ খাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাদ্র মাসের শুরুতেই যে অমাবস্যা, সেটাই কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত। এই পুজোর সঙ্গে জড়িত আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি। কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র লগ্নে তারাপীঠের মন্দিরের ন্যায় কঙ্কালী মন্দিরেও বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। কথিত আছে সাধক বামাক্ষ্যাপা, ১২৭৪ বঙ্গাব্দে কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ মহাশ্মশানে শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। মা তাঁকে নিরাশা করেনি। ধ্যানমগ্ন বামাক্ষ্যাপা এদিন তারা মায়ের আবির্ভাব পান। এছাড়াও শোনা যায়, এই তিথিতে কৌশিকী রূপে মা তারা বিশেষ সন্ধিক্ষণে, শুম্ভ- নিশুম্ভ নামক অসুরদের দমন করেছিলেন। সেই নাম থেকেই 'কৌশিকী অমাবস্যা' নামটি এসেছে।
{link}
আবার আজকের এই দিনে দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয়া স্তরের অন্যতম দেবী ‘তারা’ মর্ত ধামে আবির্ভূত হন।গত দুবছর অতিমারির কারণে পুণ্যার্থীরা এই তিথিতে আসতে পারেননি কঙ্কালী তলায় ৷ এ বছর আবার আগের মতোই মন্দির চত্বরে ভক্ত সমাগম। তাই জাকজমকপূর্ণ ভাবে কৌশিকী অমাবস্যার পুজোর আয়োজন হয়েছে কঙ্কালী তলায়। আবার আগের মত এই বিশেষ দিনে মাকে দর্শন করতে পেরে খুশি ভক্তরাও।
