সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আগামীকাল বিশ্বকর্মা পুজো। আর তার কিছুদিন পরেই পড়বে ঢাকে কাঠি। দূর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। কিন্তু তাও পুজোর আগে মন ভালো নেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা মালিক ও কর্মীদের। কার্যত দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে মুখ থুবড়ে পড়েছে ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি শিল্প। কলকারখানার গেটে ঝুলেছে তালা । কর্মহীন হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার শ্রমিক।
{link}
দক্ষিণ ২৪ পরগনা মূলত অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসাবেই পরিচিত। কিন্তু সেখানেও কর্মীদের মধ্যে বিশ্বকর্মা পুজোর আগেই আক্ষেপের সুর। কয়েকজন শ্রমিক জানায়, রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে শিল্প। বহু কারখানা এখানে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যেগুলো রয়েছে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে বহু শ্রমিক। কাজের খোঁজে শ্রমিকেরা পাড়ি দিয়েছেন ভিন্ন রাজ্যে। ফলতার পাশাপাশি জেলার অন্য প্রান্তে কান পাতলে শোনা যায় একই সুর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের তৈরী সার্জিক্যাল সরঞ্জামেরও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। কিন্তু করোনা ও লকডাউনের জেরে বন্ধের মুখে দাঁড়িয়ে বারুইপুরের সার্জিক্যাল সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গুলি। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক শ্রমিক। ওইসব কারখানার মালিকদের আবেদন, এই পরিস্থিতিতে সরকার যদি এই সার্জিক্যাল শিল্পের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে এই শিল্পও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্য প্রান্ত জয়নগরের বেশ কয়েকটি পরিবার চশমার কাঁচের লেন্স তৈরির সাথে যুক্ত। কিন্তু আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে এখন চশমাতে কাঁচের লেন্সের বদলে ফাইবারের লেন্স ব্যবহার করায় সমস্যায় পড়েছেন কারিগরেরা। বিকল্প কাজের খোঁজে তারা পাড়ি দিয়েছেন ভিন রাজ্যে। কেউবা যোগ দিয়েছেন ১০০ দিনের শ্রমিক হিসেবে।
{link}
যদিও রাজ্যের এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য একাধিক প্রকল্প ও ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস জানিয়েছেন, জয়নগরের লেন্স তৈরির শ্রমিকদের বিকল্পের কাজের রাস্তা দেখছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে এই শ্রমিকদের। ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রেও মান্যতা দেওয়া হয়েছে জয়নগরে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কাঁচের লেন্স তৈরি করা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা কারিগরদের। রাজ্য সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও সদাচিন্তিত। কিন্তু কবে রাজ্যের এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সাথে যুক্ত থাকা মানুষজনদের মুখে হাসি ফুটবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
