নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: গরুপাচার মামলায় এখন সিবিআই-এর হেফাজতে রয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তদন্তে নেমে অনুব্রতর একাধিক সম্পত্তির হদিশ পাচ্ছে। আয়-ব্যয়ের মধ্যেও রয়েছে বিস্তর গলদ এমনটাই সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে। আর এই তদন্তে অনুব্রতর কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের দিকে এবার নজর দিয়েছেন গোয়েন্দারা। অনুব্রতর বোলপুরের বাড়িতে বুধবার সুকন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শুরু করেছে সিবিআই।
{link}
অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর মেয়ের নামে মোট দুটি কোম্পানির হদিশ পেয়েছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। জানা গিয়েছে, এই দুটি কোম্পানির নাম নীড় ডেভলাপার প্রাইভেট লিমিটেড এবং এএনএম অ্যাগ্রোকেম ফুড প্রাইভেট লিমিটেড। এই দুটি সংস্থার ঠিকানাও বোলপুরের। এবার এই সংক্রান্ত আরও তথ্য পাওয়ার জন্য বোলপুরে দুটি সংস্থায় তল্লাশি অভিযান চালাতে যান সিবিআই আধিকারিকরা। বোলপুরের কালিকাপুরের হারাধন মণ্ডল রোডে যে ঠিকানায় এই কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, সেটা ভোলে বোম রাইস মিলের। সিবিআই সূত্রের খবর, এই রাইস মিলের মালিক মণ্ডল পরিবার। এছাড়াও, সুকন্যার নামে আরও ১০টি জমির চুক্তিপত্র পাওয়া গিয়েছে। এই সম্পত্তিগুলির মধ্যে ৩টি কেনা হয়েছে ভোলে বোম রাইস মিলের নামে, যেখানে সুকন্যাকে পার্টনার হিসাবে দেখানো হয়েছে। অনুব্রত মণ্ডলের পাড়া বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় ২০১৪ থেকে ২০১৬-র মধ্যে এই ১০টি জমি কেনা হয়েছে। সূত্রের দাবি, নীড় ডেভেলপার প্রাইভেট লিমিটেড নামে ওই রিয়েল এস্টেট কোম্পানি তৈরি হয়েছিল ২০০৬ সালে। যার শেয়ার ক্যাপিটাল ছিল দেড় কোটি টাকা। এএনএম অ্যাগ্রোকেম ফুড প্রাইভেট লিমিটেডের ঠিকানাতেই তৈরি হয় এই রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। অন্যদিকে বুধবার সকাল থেকেই অনুব্রত মণ্ডলের চার্টার অ্যাকাউন্টটেন্ট মণীশ কোঠারীকেও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সিবিআই।
{link}
অনুব্রতর মেয়ে পেশায় স্কুল শিক্ষিকা।নিচুপট্টির বাড়ি থেকে হাঁটা পথে মিনিট তিনেক দূরত্বেই তাঁর স্কুল।বছর তিনেক আগে ওই স্কুলে চাকরি পান সুকন্যা।তাঁর নামে থাকা যাবতীয় সম্পত্তিই এখন সিবিআই-এর নজরে।এখন প্রশ্ন উঠছে, সামান্য একজন স্কুল শিক্ষিকা কী করে এত সম্পত্তির মালিক হলেন? তদন্তে সিবিআই।

