Logo

সময়ের সম্মুখে

শেফিল্ড টাইমস

ডিজিটাল

Date: 10/06/2026 E-Paper
Advertisement
Care and Cure 1

সময়ের সাথে হারিয়ে গেছে গিনেস বুকে স্বীকৃতি পাওয়া সিদ্দিকা

Loading... রাজ্য
সময়ের সাথে হারিয়ে গেছে গিনেস বুকে স্বীকৃতি পাওয়া সিদ্দিকা
#News #The only giant woman in the world by the Guiness Book of the World Records in 2013 #Siddika Parveen #Bangshihari block #South Dinajpur #West Bengal #India #সিদ্দিকা পারভিন #দক্ষিণ দিনাজপ

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুরঃ এক সময় তাকে নিয়ে হইচইয়ের সীমা ছিল না রাজ্য জুড়ে। বছর আটেক আগেও গ্রামের রাস্তার ধূলো উড়িয়ে শাসক এবং বিরোধী দলের নেতা নেত্রীরা সহায়তার প্রতিযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে পৌঁছে গেছিল তার বাড়ি। কিন্তু এখন সে সব শুধু অতীতের ধূসর স্মৃতি মাত্র। ২০১৩ সালে পৃথিবীর একমাত্র অতিকায় মহিলা হিসেবে গিনেস বুকে স্বীকৃতি পাওয়া দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রামের অসুস্থ সিদ্দিকা পারভিনের অন্তরালের জীবন সংগ্রামে এখন আর কেউ সামিল নেই।

{link}

এমনকি কীভাবে অতিকায় চলন শক্তিহীন প্রায় অর্থব্য তরুনীটির দিন কাটছে তার খোঁজ ও রাখেনা কেউ। আজ পর্যন্ত জোটেনি দিন গুজরানের কোন সরকারি ভাতা। হয়নি আধার কার্ড। ভারতীয় অতিকায় তরুনী হিসেবে গিনেস বুকে স্থান পাওয়া সিদ্দিকা তো বটেই তার পরিবার ও এ ব্যাপারে আজ ক্ষুদ্ধ। কেমন আছেন সিদ্দিকা? এই সময় তার খোঁজ নিতে গিয়ে সেই ক্ষোভের সাক্ষী থাকলাম আমরাও। সিদ্দিকা পারভিন তো তার ছবি পর্যন্ত তুলতে দিতে নারাজ। আর তার বাবা মায়ের অভিযোগ, এর আগে অনেকে তাদের মেয়ের ছবি ও তাদের পরিবারের ছবি তুলে নিয়ে গেছেন। তাদের নিজেদের ভাগ্য ফিরলেও তাদের মেয়ের বা তাদের কোন হাল ফেরেনি। বরং অতিকায় মেয়েকে নিয়ে তারা অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন। অবহেলা অপমানের হাত থেকেও এখন নিস্তার নেই বিরল রোগে আক্রান্ত মেয়েটির। পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমারের সমস্যায় ২৩ বছর বয়স থেকে সিদ্দিকার চেহারা দীর্ঘ হতে থাকে। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তার খাবারের চাহিদা। রোজ প্রায় দুকেজি চালের ভাত খাওয়ার চাহিদা মেটাতে হিমসিম খেতে হয় গরিব পরিবারটিকে। এরপরই সিদ্দিকা ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক সময় নেতা, মন্ত্রীর সুপারিশে দলীয় কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে সিদ্দিকার চিকিৎসা করাতে ট্রেনে করে কলকাতা থেকে দিল্লি পাড়ি দিয়েছিলেন। তারপর দিল্লি থেকে সেই যে বাড়িতে সবাই নামিয়ে দিয়ে গেলেন আর কেউ খোঁজ রাখে না তার।

{link}

 এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। ক্ষোভে সকলের সাথে ঠিক ভাবে কথা বলাও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন অভিমানী সিদ্দিকা। সোজা হয়ে হাঁটতেও পারেননা ঠিকমত। তেত্রিশ বছর বয়সী সিদ্দিকাকে নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার দিনমজুর বাবা আফাজুদ্দিন ও তার মা মানসুরা বিবি। তাদের বক্তব্য, সরকার তাদের মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা তো করতে পারল না। এবার অন্তত একটি ভাতার ব্যবস্থা করে দিক। যাতে ভবিষ্যতে সিদ্দিকার অল্প হলেও নিশ্চিত সংস্থান থাকে। আর সেই দিনের পথ চেয়ে বসে রয়েছে সিদ্দিকা ও তার পরিবার।


 

সর্বশেষ আপডেট: