নিজস্ব সংবাদদাতা,দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ মগরাহাটে প্রকাশ্যে জোড়া খুন। শনিবার সকালে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের মাগুরপুকুরে। মৃত ব্যাক্তিদের নাম,বরুণ চক্রবর্তী (৩৫) ও মলয় মাকাল (৩১)। জোড়া খুনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে আমজনতা।
{link}
স্থানীয় সূত্রের খবর, পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ার বরুণবাবু এবং তার বন্ধু মলয় মগরাহাট থানার মাগুর পুকুর পোল এলাকার বাসিন্দা। বরুণ মগরাহাট থানায় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসাবে কাজ করত। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, সকাল এগারোটা নাগাদ অশান্তির সূত্রপাত। মাগুরপুকুর এলাকায় গরুর হাট বসে। সেখানেই টাকাপয়সা লেনদেন নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি বাঁধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে সিভিক ভলেন্টিয়ার। সেই সময় এক সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং তার বন্ধুকে একটি দোকানে ঢুকিয়ে শাটার নামিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। এরপর সেখানে তাদের প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু'জনকে কুপিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়াও দুটি গাড়িতে তারা আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ দেহ জানে আলম অ্যান্ড কোম্পানি নামে একটি সংস্থার ঘর থেকে উদ্ধার হয়। ওই সংস্থাটি গবাদি পশুর হাড় দিয়ে নানা জিনিসপত্র তৈরি করে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, জানে আলম অ্যান্ড কোম্পানি একটি চিটফান্ড সংস্থা। নিহতদের আত্মীয়দের অভিযোগ, বরুণ এবং মলয় ওই সংস্থায় টাকা রেখেছিল। বেশ কিছু দিন ধরে ওই টাকা ফেরতের দাবিও জানাচ্ছিল তারা। তাদের আরও অভিযোগ, শনিবার সকালে বরুণ এবং মলয়কে টাকা ফেরত দেওয়ার নাম করে ডেকে দুষ্কৃতিরা গুলি করে এবং কুপিয়ে খুন করে।
{link}
পুলিশ জানায়, দুজনের দেহ উদ্ধারের পর ওই কারখানাতে কাউকেই দেখতে পাওয়া যায়নি। ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও মিতুন দের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে। এসডিপিও বলেন, পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক আছে। মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। পুলিশ নিহতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
