নিজস্ব সংবাদদাতা,মুর্শিদাবাদঃ বাঙালির বার মাসে তের পার্বণ। আর সেই তের পার্বণের মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী লোকউৎসব হল গাজন। মালদহে গাজনের নাম যেমন গম্ভীরা তেমনি জলপাইগুড়িতে তা গমীরা নামে খ্যাত। তবে মুর্শিদাবাদের গাজন উৎসব কিছুটা অন্যরকম। ৭০০ বছরের পুরানো রীতি মেনে আজও মুর্শিদাবাদের কান্দি শহরের রুপপুর এলাকায় ভক্তরা মরার খুলি নিয়ে নাচ করে রুদ্রদেবের মন্দির প্রাঙ্গণে।
{link}
মড়ার খুলি নাচানোর এই রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে কান্দির গাজন উৎসবে। প্রতিবছরই এই অভিনব গাজন উৎসব দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থী মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়। মড়ার খুলি নাচানো ছাড়াও এদিন ভক্তরা এই মন্দিরের প্রাচীন রীতি মেনে সঙ সেজে নাচ করেন। পাশাপাশি বাবা রুদ্রদেবের বিগ্রহকে মন্দির থেকে পালকিতে করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে ভক্তরা শহর পরিক্রমা করানোর পর কান্দির হোমতলা মন্দিরে নিয়ে আসে। সেখানেই বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয় বাবা রুদ্রদেবের গাজন উৎসব উপলক্ষে। গাজন উৎসবের পরের দিন অর্থাৎ চড়ক পুজোর দিন সকালে আবার রুদ্রদেবের বিগ্রহকে একইভাবে পালকিতে শহর পরিক্রমা করিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় রুদ্রদেবের নিজস্ব মন্দিরে। পালকিতে করে রুদ্রদেবকে নিয়ে আসা এবং পরেরদিন পালকিতে করে রুদ্রদেবকে নিয়ে যাওয়ার শোভাযাত্রা দেখতে রাস্তার দুধারে ভিড় জমায় কান্দির আট থেকে আশির সকল দর্শণার্থী। এছাড়াও বিভিন্ন পূর্ণার্থী এই সুযোগে রুদ্রদেবের বিগ্রহতে জল ঢেলেও নেন। সব মিলিয়ে প্রতিবছরই কান্দি শহরে গাজন উৎসব মহাসমারোহে পালিত হয় যা এবছরেও কোন ব্যতিক্রম হয়নি।
{link}
এদিন মন্দিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য মোতায়েন ছিল কান্দি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। কান্দি শহরের বিভিন্ন সাধারন মানুষ ও ভক্তরাই এই রুদ্রদেবের গাজন উৎসব উদযাপন করার মূল কান্ডারীর দায়িত্ব পালন করেন। গাজন উৎসবকে কেন্দ্র করে কান্দি শহরে সাজ সাজ রব প্রতি বছরের ন্যায় এবছরো।
