রাজনীতিতে কি না হয়! এই কথার প্রমান রাজ্যবাসী অনেকবারই পেয়ছেন। এবার ফের চমক, শাসকের কণ্ঠে বিরোধী স্বর! এতদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ছাপ্পা, বুথ দখল, রিগিংয়ের অভিযোগ করতেন বিরোধীরা। এবার একই সুর শোনা গেল তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। আজ, বুধবার দলের কর্মিসভায় তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রামে বহু বুথে ভোট করতে দেয়নি বিজেপি। প্রচুর ছাপ্পা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বিকেল চারটে পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও পরাজিত হওয়ার কারনে এখনও মনে ক্ষোভ রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
৩৪ বছরের বাম জমানায় বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট, রিগিংয়ের ব্যাপক অভিযোগ উঠত। কংগ্রেস সহ বাম বিরোধী সব দলই এসব অভিযোগে সরব হতেন। তৃণমূলের জমানায়ও এসব অভিযোগ উঠেছে। শাসককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাম সহ অন্যান্য বিরোধী দল। এবার খোদ তৃণমূল নেত্রীই অভিযোগ তুললেন ছাপ্পা, বুথ দখলের।
ভবানীপুর উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে এদিন কর্মিসভা করেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে বহু বুথে ভোট করতে দেয়নি বিজেপি। প্রচুর ছাপ্পা হয়েছে। বিষয়টি বিচারাধীন। তাই বিশেষ কিছু বলতে চান না বলে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, আমার কাছে প্রমাণ ছিল বলেই আদালতে আমার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।
{link}
চলতি মাসের ৩০ তারিখে উপনির্বাচন হবে কলকাতার ভবানীপুরে। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও ভোট হবে ওই দিনেই। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯২টির মধ্যে ২১১টি আসন পায় তৃণমূল। তবে নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারির কাছে হেরে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিততে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের কর্মিসভায় মমতা বলেন, ভোট ঘোষণা হওয়ার পরেই এজেন্সিকে দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে হেনস্থা করা হচ্ছে অভিষেককেও।
যার ফলে বর্তমানের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে যথেষ্ট রূষ্ট হয়েই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মেনে নিতে পারেননি নন্দীগ্রামে নিজ সৈনের বিরুদ্ধে শেষ লগ্নেরও পরাজয়ও। এখন ভবানীপুরে জয়লাভ করে সেই গ্লানি মুছে যাওয়া সম্ভব হয় কি না তাই লক্ষ্যনীয় বিষয়।
.jpeg)
