সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে পুড়ে ছাই এক ভ্যান চালকের বাড়িঘর। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিন ২৪ পরগনার ক্যানিং থানার অন্তর্গত ১ নম্বর দিঘীরপাড় এলাকার জয়দেব পল্লিতে। রান্না পুজোর দিনে গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই কোনভাবে আগুন ধরে তা সম্পূর্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। আগুন লাগার দীর্ঘক্ষন পর দমকলে খবর যায়, আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে আসতে আগুনের গ্রাসে চলে যায় ঘরের অধিকাংশ অংশ।
{link}
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে পেশায় ভ্যান চালক দীপক মন্ডল। বাড়িতে রান্না পুজো উপলক্ষে শুক্রবার গভীর রাতে রান্না করার তোড়জোড় করছিলেন তার স্ত্রী নমিতা মন্ডল। সেই সময় ঘরের মধ্যে ঘুমিয়েছিলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। আচমকা গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে আগুন লেগে যায়।জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন পরিবারের লোকজন। ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা সমস্ত বাড়িঘর গ্রাস করে নেয়। মন্ডল দম্পতি তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঘুমন্ত অবস্থায় কোন রকমে অক্ষত ভাবে বাইরে বের করে নিয়ে আসা হয়। কান্নাকাটি করে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। গভীর রাতের অন্ধকারে চিৎকার কান্নাকাটি শুনে পাড়া প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসে। তারা আগুন আয়ত্বে আনার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করে জল ঢালতে থাকেন আগুনে। খবর যায় ক্যানিং থানার পুলিশের কাছে ও স্থানীয় দমকল কেন্দ্রে। খবর পেয়েই দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে হাজীর হয় ক্যানিং থানার পুলিশ ও দমকলের একটি ইঞ্জিন। দীর্ঘ প্রায় ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন আয়ত্বে আনতে সক্ষম হয় দমকল বাহিনী। তবে ততক্ষণে মন্ডল পরিবারের বাড়িঘর সহ সমস্ত আসবাবপত্র পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। বর্তমানে অসহায় ভাবে চাতকের মতো ত্রাণের অপেক্ষায় খোলা আকাশের নীচে ঠাঁই হয়েছে মন্ডল পরিবারের।
{link}
ঘটনা প্রসঙ্গে নমিতা মন্ডল জানিয়েছেন “স্নান সেরে রান্না করার জন্য সবে মাত্র ওভেন ধরিয়েছিলাম। মুহূর্তে আগুন লেগে যায়। চেষ্টা করেও কোন কিছুই বাঁচাতে পারিনি। চোখের সামনে সমস্ত কিছুই গ্রাস করে নিলো আগুন। কোন রকমে প্রাণে বেঁচেছি“ বর্তমানে তারা সর্বস্ব খুইয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় আক্ষেপের সুর স্থানীয়দের মধ্যে।
