প্রথমে মন্ত্রিত্ব এবার বিধায়ক পদ ত্যাগ করলেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র , শুভেন্দু অধিকারী। কার্যত, মেদিনীপুর বিধায়কহীন হয়ে রইল।ঘাস ফুলের ছায়ার দূরত্ব ক্রমশ আরও বৃদ্ধি ঘটল মেদিনীপুরের ভুমিপুত্রের সঙ্গে। রাজ্যের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন , আর কত সময় বাকি সেই ইতিহাস সৃষ্টি করা সিদ্ধান্তের , তাহলে কি পদ্মের গন্ধে সত্যি মাতলেন শুভেন্দু ? মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার দুই সপ্তাহ পরেই ছাড়লেন বিধায়কের পদ । কিন্তু আইন ও সংবিধান মতে পদত্যাগ পত্র বিধানসভা অধ্যক্ষকে দিতে হবে , তিনি স্পীকারকে না দিয়ে দিয়েছেন সচিবকে , তাই এই পদত্যাগ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক জল্পনা ।
আজ সকালে প্রথমে শুভেন্দু অধিকারী কনভয় হলদিয়া মোড় থেকে প্রথমে দেউলিয়া দিকে যাওয়ার পর পিছন গেট দিয়ে কোলাঘাট গেস্ট হাউসে ঢোকেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে দুটি কালো স্করপিও এবং সাদা স্করপিও থাকে কোলাঘাট গেস্ট হাউসের ভীতর। এরপর কোলাঘাট গেস্ট হাউসের পিছন গেট দিয়ে সাদা স্করপিও কোলাঘাট থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন শুভেন্দু অধিকারী। কোলাঘাট থেকে বেরোনোর পর শুভেন্দু গতিপথে ব্যবহৃত কোনো গাড়ি ছিল না। অন্য কোনো গাড়িতে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন শুভেন্দু অধিকারী।কার্যত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তিনি সমস্ত কিছু ভাবনা চিন্তা করেই এগিয়েছেন ।
২০০৬ থেকে ২০২০ দীর্ঘ ১৪ বছরের লড়াই তাঁকে বাংলার মানুষের একাংশের হৃদয়ে গভীর ভাবে জায়গা করে দিয়েছেন নন্দিগ্রামের সভা থেকে ব্যানারহীন লড়াই শেষ করেন তিনি , লড়াইয়ের ফলাফল এখন শুধু শেষ সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে।একের পর এক জনসভা করে গেছেন কোথাও দাদার অনুগামী রূপে , কোথাও ঘরের ছেলে রূপে , সুরক্ষা ছাড়াও জনসভা করেছেন।সব জল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশ সমাধান হয়েই গেছে বাকি আর শেষ হিসেব দেখার।
উল্লেখ্য , শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিত্ব পদত্যাগের পর নানা বৈঠক ও আলাপ আলোচনার পরে আশাপ্রকাশ করা হয়েছিল যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে , কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তা বিপরীত সুর প্রকাশ করছে।
ভিন্ন সুত্র মতে আগামী শনিবার সব জল্পনার অবসান হয়ে যাবে , এখন দেখার এইটাই কোন ফুলের গন্ধের প্রভাব কিভাবে প্রকাশ পায় , অপেক্ষায় রাজ্যবাসি ।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন ইতিমধ্যে শুভেন্দু অধিকারী তার সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। হয়তো হতে পারে আগামী দিনে তিনি বিজেপিতে অংশগ্রহণ করছেন । এমনি পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন বিজেপি ঘর ভাঙছে না তৃণমূল সরকারের। তিনি জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল সুব্রত বক্সী কে বিজেপিতে আসার জন্য কোন টোপ দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোর নিজে চেষ্টা করছেন বিজেপি কর্মীদের কিভাবে তৃণমূলের অংশগ্রহণ করবেন । তবে বিজেপির কোন কর্মী তৃণমূলে অংশগ্রহণ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ ।
