রাত পেরোলেই শহরে ক্রিসমাস। আর ক্রিসমাস ইভ মানেই শহরবাসীর কাছে গন্তব্যস্থল হিসাবে প্রথমেই যে যায়গা স্থান পায় তা অবশ্যই পার্কস্ট্রিট। কিন্তু কোভিড মহামারীর কারনে এবছরের প্রায় প্রতিটা উৎসবেরই ঘটা কমেছে অনেকটা করে। জারি হয়েছে বিভিন্ন বিধিনিষেধ, তাই দুর্গাপূজো, দীপাবলির পর এবার ২০২০-র বছর শেষের উৎসবও বাদ গেল না সেই তালিকা থেকে। এবারের ক্রিসমাস-এর উপর পরিস্থিতি ও জনগনের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই জনগনের স্বার্থে বেশ কিছু পদক্ষেপ সহ কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
সেই কারনেই পরিস্থিতির উপর নজর রেখে সরকারের বড়োদিনে এবার পার্ক স্ট্রিটে নিরাপত্তার জন্য উপস্থিত থাকবেন প্রায় ১২০০ পুলিশকর্মী। থাকবে মোট ১০ টি ওয়াচটাওয়ার যেখান থেকে নজরদারি করা হবে। সেই দশটি ওয়াচ টাওয়ারের কাজ প্রায় শেষ সেখান থেকে বাইনোকুলারের সাহায্যে নজর রাখা হবে। পুলিশ সূত্র থেকে জানানো হয়েছে , এই বছর করোনা পরিস্থিতিতে পার্ক স্ট্রিটের রাস্তায় খাবারের দোকান বসবে না। তাই পুলিশ বিশেষভাবে নজর রাখবে রাস্তা ও পথচলতি জনগনের উপর। রেস্তোরার বাইরে যেন বেশি ভিড় না হয় এবং রেস্তোরার ভিতরে যেন কড়াভাবে সুরক্ষা বিধি মানা হয় সেই বিষয়ে ইতিমধ্যেই রেস্তোরাগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেস্তোরার বাইরে যাতে ভিড় না জমে সেদিকে নজর রাখবে পুলিশও। পুলিশের ধারনা এবারে পার্কস্ট্রিট ও শেক্সপিয়ার সরণি এলাকায় অন্যবারের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম মানুষ আসতে পারেন, তবুও যাতে ভিড় না হয় সেবিষয়ে সতর্ক থাকবেন পুলিশ কর্মীরা। ওই অঞ্চলে বারংবার মাইকিং করা হবে যাতে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় থাকে এবং প্রত্যেকের মুখে মাস্ক থাকাও আবশ্যক। ক্রিসমাস ইভ থেকেই পুরো পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলকে মোট পাঁচটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে, প্রতিটি সেক্টরের দ্বায়িত্বে থাকবেন একজন করে ডিসি মর্যাদার পুলিশকর্তা, তার সঙ্গে থাকবেন একজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার।
যার ফলে এবারের বছর শেষের শহরবাসীর প্রাণপ্রিয় উৎসব কিন্তু কড়া বিধিনিষেধের মধ্যে। প্রথমে ক্রিসমাস উৎসব তারপরে বড়োদিন, বছর শেষে শহরবাসী প্রানের উৎসব। তাই প্রতিবছরের মতো যে এবছরে কোভিড পরিস্থিতিতেও শহরবাসী শীতের এই উৎসবে মেতে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। সবশেষে শহরের ও উৎসবের সুরক্ষার দ্বায়িত্ব কিন্তু শহরবাসীর হাতেই। সচেতন থাকলেই উৎসবও কাটবে আনন্দের সাথে। মেরি ক্রিসমাস!
