মেঘদূত রায়
পর্যটন প্রেমিক বাঙালির কাছে দেবী আগমনের আগেই সুখবর ।ট্রেনে করে ঘুরতে যাওয়া বা ভিন রাজ্যে ঘুরতে যাওয়ার চিন্তা অনেকটাই কমতে চলেছে ।দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে খুলল গড়চুমুক মিনি জু। সাত মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার থেকে চালু হল রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন কেন্দ্রটি। তবে এখনই চড়ুইভাতির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। মিনি জু এর পরিস্কার পরিছন্ন সহ পরিকাঠামোগত সংস্কারের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাওড়া জেলা পরিষদের কর্তারা জানিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি বিচার করে চড়ুইভাতির অনুমতি দেওয়া হবে।
করোনার আবহে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ছিল। মাস খানেক আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন ধীরে ধীরে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে রাজ্যের নানা পর্যটন কেন্দ্র খুলেছে। ফলে আশা জেগেছিল গড়চুমুক মিনি জু ও খুলবে। সেই আশা বাস্তবায়িত হল। এদিন মিনি জুয়ের এই পথ চলার শুরুর সূচনা করেন হাওড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাবেরী দাস ও সহকারি সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন বন ও ভূমি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ অন্তরা সাহা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ শ্রীধর মন্ডল, বিদ্যুত বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ গোপা ঘোষ ও নারী-শিশুকল্যাণ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ আম্বিয়া খাতুন প্রমুখ। অন্তরা, গোপা ও আম্বিয়ারা নিজেরা টিকিট কেটে ভেতরে টোকেন। তারা ডিয়ার পার্ক সহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। অজয় ও শ্রীধর বলেন, মঙ্গলবার থেকে গড়চুমুক মিনি জু খুলে দেওয়া হল সর্বসাধারণের জন্য। করোনা আবহে এই মিনি জু বন্ধ ছিল। ভ্রমণপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে সরকারি নির্দেশ মেনে মিনি জু খুলে দেওয়া হল। নির্বিঘ্নে ভ্রমণ পিপাসুরা গড়চুমুক মিনি জু-এ ঘুরে বেড়াতে পারবেন। তবে এখনই চড়ুইভাতির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে করোনা বিধি মানার উপর যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের মাস্ক বাধ্যতামূলক মিনি হয়েছে জু এ ঢোকার আগে। আগত পর্যটকদের স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। থার্মাল স্ক্রিনিং করা হবে। সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখার দিকে লক্ষ্য রেখে পর্যটকদের প্রবেশে করানো হবে। যদি পর্যটকরা নিয়ম অমান্য করেন তাহলে প্রয়োজনে ফের মিনি জু বন্ধ করে দেওয়া হবে।
গড়চুমুক মিনি জু খোলার খবরে স্বাভাবতই মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় দোকানদারদের ও পর্যটকদের মধ্যে। অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এখানে আসেন মনোরম পরিবেশ ও হরিণ, কুমীর সজারু সহ দেশি বিদেশি রংবেরঙের পাখিদের টানে। করোনা পরিস্থিতিতে লক ডাউন ঘোষণা হওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল গড়চুমুক মিনি জু। তার উপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় আমফান ঝড়ে। তছনছ হয়ে যায় মিনি জু। ভেঙে পড়ে প্রায় চারশো ছোটবড় গাছ। গড়চুমুক পর্যটন কেন্দ্রের মিনি জু এর ডিয়ার পার্কের তারের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি জায়গায়। এদিকে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকার ফলে বন হয়ে গিয়েছিল গোটা চত্ত্বর। বড় বড় আগাছা জন্মে যায়। বনজঙ্গল দ্রুত সাফসুতরোর কাজ শুরু হবে বলে জানান অজয়বাবু। এদিন ই মিনি জু এ ঘুরতে আসেন সৌমিলী ভৌমিক, সেখ রাজু। তারা জানান বেশ ভালো লাগছে। স্টেশনারি দোকানদার শুকদেব মাইতি বলেন, অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। গড়চুমুক মিনি জু খোলায় আশাকরি এবারে বিক্রিবাটা বাড়বে। মুচকি হেসে বলল শুকদেব।
