শেষ দুটো বিধানসভা নির্বাচনে ডোমজুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে রাজীব ব্যানার্জি জয়ী হলেও এবারের ডোমজুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে রাজীব ব্যানার্জিকে জিততে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে। হতে পারে এই কেন্দ্র কে হাতের তালুর মতো চেনেন রাজীব কিন্তু এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী তার এক সময়ের সঙ্গী তৃণমূলের প্রার্থী কল্যাণ ঘোষ। এক সময় রাজীবের সাথে কল্যাণের সম্পর্ক মধুর থাকলেও গত পাঁচ বছরে সেই সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। সাপে নিউলের সম্পর্কে পৌঁছেছে তাদের সম্পর্ক।
২০১৮ শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদে কল্যাণ ঘোষ কে প্রার্থী করতে রাজি ছিল না রাজীব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কল্যাণ ঘোষ কে জেলা পরিষদে প্রার্থী করতে টিকিট দেন। রাজীব আর কল্যাণের বিবাদের মধ্যে মধ্যস্ততা করতে মমতা দায়িত্ব দেন শ্রীরামপুরের সংসদ আর এক কল্যাণ কে। কিন্তু তিনি ও কার্যত হেরে যান। কল্যাণ নির্বাচনে দাড়ালে রাজীব মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেবেন এমন হুমকিও দেন সংসদ কল্যাণ ব্যানার্জিকে। এর ই মাঝে মমতার নির্দেশে জেলা পরিষদে কল্যাণ ঘোষ মনোনয়ন জামা দিতেই আগুনে ঘি পড়ে যায়। রাজীব ব্যানার্জি কল্যাণের বিপক্ষে নির্দল প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে দেন। শুরু হয় প্রেস্টিজ ফাইট। শেষ পর্যন্ত আড়ালে থেকে কল্যাণ ঘোষকে ব্যাপক ভোটে হারিয়ে দেন। কিন্তু তৃণমূল রাজীবের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারে নি। সম্ভবত তখন থেকেই রাজীবের তৃণমূলের সাম্পর্ক ফাটল ধরতে থাকে। এদিকে কল্যাণ ঘোষ কে ধরে রাখতে মমতা তাকে হাওড়া জেলা পরিষদের মেন্টর করে দেন। কিন্তু প্রতিশোধ স্পৃহাতে ভুগতে থাকা কল্যাণ এবার রাজীব কে দুরমুশ করতে সাত সকালেই রাজীব গড় ভাঙতে ছুটছেন। একটার পর একটা মিছিল মিটিং কর্মিসভা পথসভা করে ভোট ভিক্ষা করছেন কল্যান।
রাজীব বিজেপি তে যেতে পুরোনো তৃণমূল কর্মী ও রাজীব অনুগামী তৃণমূলীদের সঙ্গে সম্পর্কের ঘনত্ব বাড়ানোর প্রানপন চেষ্টা করছেন কল্যাণ। সারা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একটা অংশের মানুষ তাকিয়ে আছেন রাজ্যের দুটি কেন্দ্রের দিকে। একটি যদি হয় নন্দীগ্রাম তবে অন্যটি হলো ডোমজুড়।

