একসময় তৃনমূলের অন্যতম শক্তিশালি কেন্দ্র হিসাবে প্রথম সারিতে নাম ছিল হাওড়ার। হাওড়ায় ঘাসের উপর জোড়াফুলের দুর্গ ভাঙা অন্যতম কঠিন কাজ বলে মনে করতেন বিপক্ষ শিবিরের সদস্যেরা। কিন্তু একুশের ভোটের আগে কার্যত সেই চিত্রে আমূল পরিবর্তন। যে সকল সেনাপতিদের কারনে অপ্রতিরোধ্য ছিল দুর্গ সেই সেনাপতিরাই দুর্গত্যাগ করেছেন। বহু আগেই দল ছেড়েছেন লক্ষীরতন শুক্লা, বহিস্কৃত করা হয়েছে বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে। একই পথে দলের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী। চোখের জলে মন্ত্রিত্বপদ ত্যাগের পর শুক্রবার দল থেকে পদত্যাগ করেছেন হাওড়া সহ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পরিচিত মুখ রাজীব ব্যানার্জি। বর্তমানে একমাত্র অরূপ রায় ছাড়া হাওড়ায় আর কোন বড় মুখ নেই ঘাসফুলের শিবিরে। একসময় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে পা মিলিয়ে চলতে থাকা দলের সদস্যদের আসন যে বর্তমানে ফাঁকা সে কথা কার্যত স্পষ্ট।
রবিবার হাওড়ার ডুমুরজলায় জনসভা করতে আসছেন অমিত শাহ। সেই সভাতেই কি তৃনমূলের প্রাক্তন এই সেনাপতিদের নিয়ে হাওড়ায় নিজেদের দুর্গ দাঁড় করাতে চলেছে বিজেপি? উঠছে প্রশ্ন। সেই দুর্গ যদি দাঁড়িয়ে যায় তবে তা যে অন্যতম শক্তিশালী এক দুর্গ হবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। হাওড়াতে নবান্ন হওয়ার পর যে গঙ্গাপারের এই কেন্দ্রের গুরুত্ব আরও বেশ কয়েকগুন বেড়েছে সে কথা এক বাক্যে স্বীকার করা যায়। তবে কি নবান্নের ঘাঁটির কেন্দেই আঘাত হেনে তৃনমূল কংগ্রেসকে ভোটেও আগে আরও দুর্বল করে তুলতে চাইছে পদ্মের শিবির? প্রশ্ন উঠছে বেশ কিছু রাজনৈতিক মহলে। হাওড়ার এই সমস্ত তাবড় তাবড় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব কি তবে একুশের মহারনে পদ্মফুলের ছত্রছায়ায়? হাওড়ার ঘাসফুলের দুর্গপতনও কি আসন্ন? প্রথম প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে রবিবারের অমিত শাহের জনসভায় আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর সাধারন মানুষের হাতে।
