দুয়ারে কড়া নাড়ছে পুরসভা ভোট। তাই এবার কলকাতা পুরসভার ধাঁচে শিলিগুড়িতেও চালু হল টক টু চেয়ারম্যান পরিষেবা।কলকাতার মতোই এই পরিষেবার মাধ্যমে আমজনতা সরাসরি পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে পারবেন। এদিন গুচ্ছ অভিযোগ পেয়েছেন চেয়ারম্যান তৃণমূলের গৌতম দেব। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, ভোটের আগে সাধারন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করতেই এই পরিষেবা চালু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এতে জনপ্রীয়তাও বাড়বে, সাথে দলের সাথ শিলিগুড়ির মানুষের জনসংযোগও উন্নত হবে।
সবার প্রথমে কলকাতা পুরসভায় চালু হয়েছিল টক টু মেয়র পরিষেবা। সপ্তাহের একটি দিন মেয়র স্বয়ং শুনতেন আমজনতার অভাব-অভিযোগের কথা। সেই মতো হত সমাধান। এবার শিলিগুড়িতেও চালু হয়ে গেল এই পরিষেবা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন মাস দুয়েকের মধ্যেই হবে রাজ্যের বকেয়া ১১১টি পুরসভার নির্বাচন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই সাত মাস আগে বোর্ডের দায়িত্ব পেলেও, নির্বাচনের ঠিক আগে আগে চালু হয়ে গেল টক টু চেয়ারম্যান পরিষেবা।
{link}
রাজ্যে পালাবদল হলেও, শিলিগুড়ি পুরসভার রাশ ছিল বামেদের হাতে। মেয়র ছিলেন সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে বসানো হয় প্রশাসক। প্রশাসক পদে বসানো হয় তৃণমূলের গৌতম দেবকে। যা নিয়ে হইচই হয় বিস্তর। কারণ অন্যত্র যাঁরা মেয়র কিংবা চেয়ারম্যান ছিলেন, তাঁদেরই বহাল করা হয় প্রশাসক হিসেবে। ব্যতিক্রম কেবল অশোক। বর্ষীয়ান এই সিপিএম নেতাকে সরিয়ে বসানো হয় গৌতমকে। সেই গৌতমই চালু করলেন টক টু চেয়ারম্যান পরিষেবা। এখন গৌতম মেয়র হিসেবে চাইছেন মানুষের সমস্যার আরও কাছে পৌছাতে, তাই তিনি এই পরিষেবা চালু করেছেন বলে মতামত স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের।
{link}
শনিবার ওই পরিষেবায় ২৯টি ফোন কল অ্যাটেন্ড করেন গৌতম। এর সিংহভাগই রাস্তা, নিকাশি, বেআইনি নির্মাণের সমস্যা সংক্রান্ত কল। গৌতম বলেন, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ জানানোর জায়গা ছিল না। হোয়াটসঅ্যাপ চালু করা হয়েছিল। সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেক অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেগুলো দেখা হয়নি। সেই কারনেই এই পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন পুরসভা নির্বাচনের পূর্বে এহেন পদক্ষেপ শিলিগুড়িতে তৃণমূল কে সাফল্য এনে দিতে পারে কি না, তাই দেখার বিষয়।

