নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: জলাজমির মধ্যে থেকে মাথার খুলি সহ মানব দেহের কঙ্কাল উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়ালো লিলুয়ার আনন্দনগর কালীতলায়। সোমবার দুপুরে প্রায় ৮ বিঘা জলাজমির ভিতরে কঙ্কালটিকে দেখতে পান স্থানীয় এক যুবক। জলা জমিটিতে জল শুকিয়ে জঙ্গল হয়ে যাওয়ায় ওই জলাজমিতে তিনি গাছের ডাল সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। জলাজমির একেবারে মাঝ বরাবর গাছের ডাল সরাতেই ওই কঙ্কালটিকে চোখে পড়ে ওই যুবকের। তিনিই খবর দেন স্থানীয়দের। খবর যায় লিলুয়া থানায়। পুলিশ গিয়ে জলাজমি থেকে কঙ্কালটিকে উদ্ধার করে ফরেন্সিকে পাঠায়। সম্পূর্ন বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
{link}
এদিকে কঙ্কাল উদ্ধারের পরেই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কঙ্কালটি উদ্ধারের সময় সেখানে গিয়ে ভিড় করেন এলাকার কয়েকশো বাসিন্দা। কঙ্কালটির খুলির সামনে একটি লাল রঙের পলা পড়েছিল। যা দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় কঙ্কালটি এলাকারই এক বাসিন্দা বৃদ্ধার। এর পরই তাঁরা অভিযোগ করতে থাকেন, ৬ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা ওই বৃদ্ধাকে খুন করে ওই জলাজমিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কঙ্কালটি তাঁরই। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে কঙ্কালটি উদ্ধার করতে যায় তখন স্থানীয়রা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁরা দাবি করতে থাকেন, নিখোঁজ হওয়া ওই বৃদ্ধার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে।
{link}
স্থানীয় এক বাসিন্দা শংকর সিং জানিয়েছেন, আনন্দনগর কালীতলারই বাসিন্দা বছর ৬৫-র ওই বৃদ্ধার উপর অত্যাচার করতো তাঁর ছেলে মেয়েরা। বৃদ্ধার দুই মেয়ে ও এক ছেলে তাকে খেতেই দিত না। প্রায়ই তাঁর উপর নির্যাতন চালাতো। বাড়ি থেকে বার করে দিত, মারধর করতো। বৃদ্ধা এলাকায় অন্যের বাড়িতে খাবার চেয়ে খেতো। ৬ মাস আগে ওই বৃদ্ধা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। শংকরবাবু জানান, লিলুয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও হয়েছিল। মাস দুয়েক আগে বৃদ্ধার স্বামী মারা যান। মাস ছয়েক আগেই বৃদ্ধাকে খুন করে ওই জলাজমিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শংকর। এদিন কঙ্কালটি উদ্ধারের পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ওই বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যদের উপরও রীতিমতো চড়াও হন এলাকার বাসিন্দারা। পুলিশ অবশ্য এখনই এই অভিযোগ মানতে নারাজ। হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানালেন, ‘‘কঙ্কালটি কার তা চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে কঙ্কালটি কোনও এক মহিলার। কঙ্কালটিকে ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কঙ্কালটি কার আগে তার তদন্তই করছে পুলিশ’’ এখন ফরেন্সিক রিপোর্টে কি তথ্য উঠে আসে সেটার দেখার বিষয়।
.jpeg)
