বন্ধু কাকে বলে? হয়ত এই মুহুর্তে তার সর্বাধিক বড়ো প্রমান শোভন-বৈশাখী। কার্যত গতকাল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে বৈশাখীকে প্রকৃত বন্ধুর মতোই পাশে পেয়েছেন শোভন। গতকাল শোভন গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রথমেই তিনি ছুটে যান নিজাম প্যালেসে, আর তারপর রাতে ছুটে যান প্রেসিডেন্সি হাসপাতালে। দেখা না পেয়ে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
{link}
গতকাল, সোমবার সাত সকালে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে তুলে নিয়ে যায় সিবিআই। তার পর দিনভর চলে টানাপোড়েন। রাতে প্রথমে জামিন দেওয়া হলেও তারপর ফের চার তৃনমূল নেতাকে জেলে রাখার পক্ষে রায় দেয় কোর্ট। রাত হতেই প্রকৃত বন্ধুর কর্তব্য পালনে একটুও দেরি করেননি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতেই চলে গিয়েছেন নিজাম প্যালেসে। সেখান থেকে প্রেসিডেন্সি জেলে। জেলের গরাদে ধাক্কা মেরে মেরে ভেঙে পড়েন কান্নায়, প্রিয়জন যে বন্ধ দরজার ওপারে, তার দেখাশোনা করবে কে? সেই চিন্তাই হয়ত ঘুরছিলো মাথায়।
{link}
গতকাল অবশ্য শোভন-এর স্ত্রী রত্না বন্দ্যোপাধ্যায়ও গিয়েছিলেন নিজাম প্যালেসে। কয়েক বছর আগে তার সান্নিধ্য ছেড়ে শোভন যখন বৈশাখীর সঙ্গই বেছে নেন, তখনও লোকে দুয়ো দিয়েছে বৈশাখীকে। সারা বাংলার মানুষের কাছে হাস্যরসের বিষয় হয়ে উঠলেও তাকে বিশেষ পাত্তা দেননি পেশায় অধ্যাপিকা বৈশাখী। স্বামী-মেয়ে-সংসার সামলে তিনি সময় দিয়েছেন শোভনকে। শোভনের নানা সিদ্ধান্তেরও শরিক হয়েছেন বৈশাখী অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই। শোভন যখন দিল্লি উড়ে গিয়েছেন বিজেপিতে যোগ দিতে, তখন ছায়ার মতো তাঁকে অনুসরণ করেন বৈশাখী। শোভনের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও যোগ দেন বিজেপিতে। পরে শোভন বিজেপি ছাড়লে তিনিও তার শরিক হয়েছেন। শোভন যখন রাজনীতির জগৎ থেকে শত হস্ত দূরে সরে গিয়েছেন, তখন তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন বৈশাখীও। শোভনকে যখন সিবিআই আধিকারিকরা গ্রেফতার করে, তখনও মৃদু লয়ে হলেও, প্রথম বাধাটা আসে বৈশাখীর কাছ থেকেই। অতঃপর গভীর রাতে বৈশাখী তাঁকে অনুসরণ করে গেলেন প্রেসিডেন্সি জেল পর্যন্ত।
{link}
যদিও গরাদের উল্টোদিকে তখন ঠিক কি হচ্ছিল সে বিষয়ে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। তখন উল্টোদিকে শোভন বাবুও হয়ত আকুল হৃদয়ে তার বন্ধুর কথাই ভাবছিলেন। হয়ত ভাবছিলেন এই বুঝি হয়ত এক বৈশাখী ঝড়ের মতো এসে জেল থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাবেন… হয়ত মানে হতেও তো পারে!
