বিধানসভা নির্বাচন এখন দুয়ারের নিকট , সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু সেই সময় অবধি পৌঁছানোর আগেই কার্যত বাকযুদ্ধের প্রভাব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক লড়াই তীব্র গতিতে এগিয়ে চলেছে। আবার তৃণমূল – বিজেপির লড়াইয়ের মশাল জ্বলতে শুরু হল, যার মধ্যমণি ছিলেন একদিকে ফিরহাদ হাকিম ও অন্যদিকে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।
আল-আমিন কলেজের ইনচার্জ ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে একটি ভিডিওতে তাকে নিযে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেছে। যেখানে বলা হয়েছে "বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় কে উখারকে ফেক দো"। এই বিষয়ে রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর এর সঙ্গে দেখা করলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাটি অতি নিন্দনীয় বলে জানিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনা কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। এদিন তিনি পুরো ঘটনা জানানোর জন্য রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আসার পর তিনি এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনার বিবরণ জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে একটি কলেজের উচ্চপদে আসীন ছিল তাকে নিয়ে এরূপ বিরূপ মন্তব্য কোন মানুষ বা কোনো রাজনৈতিক দলের কখনোই করা উচিত নয়।এটা কখনোই শোভনীয় নয়।
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন একটি মহিলার সম্পর্কে এই রকম মন্তব্য করা কখনই উচিত নয় এবং বাংলার মানুষ কখনই তা মেনে নেবেন না। এর পাশাপাশি তিনি সরাসরিভাবে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ও আমিরুদ্দিন ববির নাম উল্লেখ করেছেন ।যারা তার সম্পর্কে এই রকম মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন তারা আসলে কি করতে চান। এই বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি এদিন রাজ্যপালের কাছে তিনি এই আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন আল-আমিন কলেজের টিচার ইনচার্জ এর পদের প্রতি এত কেনো লোভ তার নেই। বরং সেখানকার যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা রয়েছেন তাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবা উচিত। এর পাশাপাশি তিনি ফিরহাদ হাকিম এর বিরুদ্ধে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম এর তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে ,তাদের যদি কেউ কোনোভাবে বাংলা থেকে উৎখাত করতে চায় তাহলে তখন কি হবে। তাই এই ঘটনার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে তিনি জানিয়েছেন।
দেখে নিন সেই বক্তব্যেরই কিছু অংশ...
চেতলার শুরু হলো "দুয়ারে সরকার" এর পরিষেবা। সকাল থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। সবাই এখানে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর জন্য আবেদন করছেন। তবে তার পাশাপাশি রয়েছে ঐক্যশ্রী এবং তফশিলি ভাই-বোনদের জন্য আবেদনপত্র জমা করা হচ্ছে। যারা এখানে আবেদনপত্র জমা দিতে এসেছেন তাদের প্রত্যেকের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বারবার করে জানানো হচ্ছে। এই মঞ্চ থেকেই এ দিন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতকালের অভিযোগের জবাব দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানিয়েছেন তাঁর এখন সময় নেই কোনো ভাবেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার। তাই শোভন-বৈশাখী কি করছেন সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কারণ তিনি নিজে এখন শরীরে করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং তা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন। তার কারণ ডাক্তারি পরামর্শ রয়েছে তার নিজের শরীরের ওপর নজর রাখার।
তিনি বাংলার মানুষের জন্যই এই কাজ করেছেন এবং এই গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ২১ দিন পর তার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে এবং তারপরেই নির্ধারিত হবে এই করোনার ভ্যাকসিন বাংলার মানুষ ভারতের জনসাধারণকে দেওয়া সম্ভব কিনা ।তাই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
