শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: মূল কথা হলো, কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তকে কি বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাদের তদন্তের বাধা দিতে পারে? ভারতীয় সংবিধান এর উত্তরে জানাচ্ছে - 'না'। আর এই কাজটাই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে কলকাতায় হাইকোর্ট-এ শুনানির সময় হুলিগান বাহিনীর গন্ডগোলের কারণে বিচারপতি বিচার বন্ধ করে দেন। এই নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর মধ্যে চলা আইনি লড়াই এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির সময় তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে আজ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলো দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, হাইকোর্টের ভেতরের এই অবস্থা দেখে তারা ‘অত্যন্ত বিচলিত’। আদালত এই বিষয়টিকে একটি ‘গুরুতর বিষয়’ হিসেবে গণ্য করে নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, ‘হাইকোর্ট কি যন্তর মন্তরে পরিণত হয়েছে?’ আদালত সাফ জানিয়ে দেয় যে, আবেগের বশবর্তী হয়ে বারবার এমন বিশৃঙ্খলা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
{link}
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘তথ্য চুরির’ অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, আই-প্যাকের মালিক প্রতীক জৈনের আবাসন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে তথ্য সরিয়ে নিয়েছেন। মেহতা বলেন, ‘এই ধরনের কাজ রাজ্য পুলিশ অফিসারদের অপরাধে মদত দিতে উৎসাহিত করবে।’ তিনি অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ডিজি রাজীব কুমার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্ড করার দাবি জানান।
{link}
তৃণমূল নেত্রীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বাল ইডির অভিযানের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের পর কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় কোন অগ্রগতি হয়নি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এখন ইডি কেন সক্রিয় হলো?’ সিব্বালের দাবি, আই-প্যাকের কাছে নির্বাচনের রণকৌশল এবং প্রার্থী তালিকা সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য থাকে। ইডি সেই তথ্য হাতিয়ে নিলে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি যুক্তি দেন, সেই গোপনীয়তা রক্ষা করতেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু এই যুক্তিতে ভীষণ অখুশি আদালত। এখন দেখার পরবর্তী শুনানির দিন বিষয়টা কোন দিকে যায়!!
{ads}