"এ মঞ্চ পবিত্র মঞ্চ, আমার মত কি! পথ কি! এই প্ল্যাটফর্মে আমি বলব না… দেখা হবে লড়াইয়ের মঞ্চে, দেখা হবে রাজনীতির মঞ্চে, লড়াইয়ে মানুষ জিতবে, বাংলা জিতবে।" রাজনৈতিক মহলে চলতে থাকা দীর্ঘ দশদিনের দূরকল্পনা এবং কৌতূহলে জল ঢেলে এদিন নন্দীগ্রামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মানুষের জয়ের কথাই ইঙ্গিত করলেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। বিগত ১৩ বছরের রাজনীতির পথ মনে করতে গিয়ে তিনি জানালেন, চলতি পথে কোথায় খানাখন্দে ভর্তি, কোথায় হোঁচট খাচ্ছেন সবটুকুই তিনি উগড়ে দেবেন রাজনৈতিক ময়দানে।
"আমি নতুন লোক নই, চেনা বামুনের পৈতে লাগে না! ক্ষমতার দম্ভ নিয়ে আমি লড়াই করিনি।" ২০০৩ সাল থেকেই প্রত্যেকটি বছরই ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে পালিত নন্দীগ্রাম দিবসে উপস্থিত থাকেন শুভেন্দু বাবু। তাই, এই মঞ্চ, এই জায়গা, এই মানুষজন তার কাছে যে অচেনা নয় সেই বিষয়টি চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে গেলেন তিনি। ‘’আপনারা এতদিন কোথায় ছিলেন? ভোটের পরে আপনারা আসবেন তো?" মঞ্চে দিব্যেন্দু অধিকারীর থেকে ফিরোজা বিবি, মেঘনাথ পালের মতো তাবড় তাবড় নেতারা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে বিন্দুমাত্র উল্লেখ না করে, এমনকি দলনেত্রীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে অনবরত নিজের বক্তব্য রেখে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী।
নন্দীগ্রামে ৩১শে অক্টোবর বিজয়া সম্মিলনীতে উপস্থিত থেকে আজকের সভার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তাই বেশ কিছুদিন ধরে চলতে থাকা নানা ফিসফিসানি আজকের সভার দিকে চেয়ে ছিল। অনেকের অনুমান ছিল, বর্তমানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক হাওয়া বদলের গল্পে একমাত্র নতুন মোড় আনতে পারবে আজকের জনসভা। আজকের সভায় সেই সমস্ত অনুমানকেই এড়িয়ে গিয়ে এক দোটানার মাঝে রেখে গেলেন মেদিনিপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী।
