শেষ মূহূর্তে সমস্ত জল্পনার আগুনে জল ঢেলে বিদায় ঘন্টা বেজে উঠলো তৃণমূল শিবিরে। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী আজ মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে মন্ত্রীত্বপদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে শুভেন্দু অধিকারীর এই পদত্যাগ নিশ্চিতভাবে ভাঙন ধরাবে তৃণমলের অন্দরে।
বেশকিছুদিন ধরেই বাংলার রাজনীতি উত্যপ্ত ছিল রাজ্যের অন্যতম বিচক্ষণ যুবনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অন্তিম সিদ্ধান্ত নিয়ে। এর শেষ কি হতে চলেছে তা নিয়ে শোরগোল বেধেঁছিল রাজনৈতিক মহলে। পরশুদিন সমস্ত আলোচনার অবসান ঘটিয়ে হুগলী রিভার ব্রিজ কমিশনার্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন শুভেন্দু বাবু। সেই থেকেই জল্পনা তুঙ্গে পৌঁছায়। এই ইস্তফার পরবর্তীকালেই তিনি রাজ্যের তরফ থেকে দেওয়া নিরাপত্তা রক্ষীদেরও ফিরিয়ে দেন। কার্যত ধীরে ধীরে সমস্ত পদ থেকে তার সরে দাঁড়ানো ইঙ্গিত দিয়েছিল ঘর বদলের। শেষমেশ আজ শুক্রবার অপরাহ্নে রাজ্যের পরিবহণ, সেচ এবং জনসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ থেকে সরে দাঁড়ান শুভেন্দু অধিকারী। ফলত, সবটুকু অনুমানে আজ শিলমোহর দিয়ে রাজনৈতিক হাওয়া গরম করে দিলেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র।
নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকেই রাজনীতির ময়দানে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন শুভেন্দু অধিকারী। যুবনেতা হিসেবে ধীরে ধীরে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন সমগ্র পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া জেলায়। জঙ্গল মহল এবং আদিবাসী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে শুরু হয় বিভিন্ন পর্যায়ে জনমত গঠনের প্রয়াস। দেখে নেওয়া যাক পুরোনো স্মৃতিচারনা...
২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল প্রথম পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদে ক্ষমতায় আসে এবং পরবর্তীকালে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল সরকার। কিন্তু তার পর থেকেই ধীরে ধীরে দলের যুবরাজের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত করা হয় দলের পক্ষ থেকে। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই আত্মসম্মানে লাগে দলের প্রথমসারির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
তার মন্ত্রীত্বপদ থেকে বিদায় নেওয়া ইতিমধ্যেই আশার আলো দেখিয়েছে দিল্লী শিবিরে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবন, বিপুল সংখ্যক জনসমর্থন এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতা বিলক্ষণ প্রভাব ফেলবে তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে। এই ইস্তফা প্রভাব ফেলতে পারে প্রায় ৭টি জেলা সহ কয়েক লক্ষ জনগণের সিদ্ধান্তেও। তবে কি তিনি যোগ দিতে চলেছেন তৃণমূলের প্রতিপক্ষ শিবিরে ? নাকি নতুন কোনো দলে যোগ দিয়ে কড়া টক্কর দিতে চলেছেন একুশের নির্বাচনে? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে নির্বাচনের প্রাক্কালেই।
