উন্নয়নশীল রাজ্যের খেতাব পেতে হলে সব থেকে প্রথমে যে বিষয়টির প্রতি নিজর দেওয়া প্রয়োজন তা হল স্বাস্থ্য। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অগ্রগতিই নির্ধারণ করে দেয় উন্নয়নের মাপকাঠি। বর্তমানে করোনার প্রকোপে রাজ্যের এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই প্রায় থমকে গিয়েছে। সংক্রমণের হার প্রথম পর্যায় থেকে আনলক প্রক্রিয়া পর্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধির কারণে সাংগঠনিক এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে গোটা রাজ্য। এই পরিস্থিতিতেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে রাজ্যের সমগ্র জনসংখ্যার নাম নথিভুক্তিকরণ কিছুটা হলেও স্বস্তি জোগাতে পারে সাধারণ মানুষের জীবনে।
স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প রাজ্য সরকার দ্বারা প্রাথমিক ভাবে শুরু হয়েছিল ৩০শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সালে। প্রকল্পের অধীনে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে মানুষকে এই প্রকল্পের অধীনে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রত্যেকটি পরিবার সরকারের তরফ থেকে দেওয়া স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিমা পেতে পারতেন। ব্যাবস্থাটি সম্পূর্ন রুপে ক্যাশলেস একটি প্রক্রিয়া। তবে একটি খামতি ছিল এই প্রকল্পে, তা হল রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে এই প্রকল্পের অধীনে আনা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেই সমস্যাকেই দূর করতে নতুন ভাবে পরিকল্পনা করল রাজ্য সরকার। সরকারি প্রতিনিধিরা “দুয়ারে দুয়ারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার”-এর প্রকল্প অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই তালিকাটি তৈরী করবেন। পরিবারের মহিলা অভিভাবকের নামে তৈরী এই কার্ডে শিশু থেকে বয়স্ক প্রত্যেকেই প্রকল্পের অধীনে আসতে পারবেন। এছাড়াও রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালকে এই উদ্যোগে সামিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যের সরকারের মন্তব্য অনুযায়ী, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ নামে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত প্রকল্পে পুরো খরচের ৬০ ভাগ অর্থ প্রদান করে থাকে কেন্দ্র। বাকি ৪০ ভাগ অর্থ দিতে হয় রাজ্য সরকারকে। সেদিক থেকে এই নতুন ভাবে সংযোজিত প্রকল্প পুরোপুরি ভাবেই পরিচালনা করা হবে রাজ্য সরকারের অর্থ দ্বারা।
বিরোধীদের একাংশের দাবি দেনার মধ্যে থাকা সরকারের এই পদক্ষেপ নতুন করে দেনার মধ্যে ফেলবে রাজ্য সরকারকে। দেখে নি সেই মন্তব্যেরই বেশ কিছু অংশ…
এই উদ্যোগে একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ দিকের অভাব থেকেই যায়। যা হল আউট পেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট চিকিৎসা। চিকিৎসকের পরামর্শ মত প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ করা হয় সাধারণ চেক আপ-এর মাধ্যমে। ফলত অনুমান করা যায়, সার্বিক ভাবে রাজ্যের সমগ্র জনগণকে এই প্রকল্পের অধীনে আনা হলেও নিত্যদিনের চিকিৎসার ব্যয় থেকে রেহাই পাবেন না অনেকেই।
