বেলাশেষের পর্দায় বিশ্বনাথ ও আরতির সংসারের প্রতিটা মুহূর্ত মন কেড়েছিল দর্শকের। শেষ বছরে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এবার তার পথেই পাড়ি দিলেন অভিনেত্রী স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। ভগ্ন হল বেলাশেষের সংসার। প্রেম কে যে মানুষটি অভ্যাস হিসেবে চিনিয়েছিলেন আজ তিনি ৭১ বছর বয়সে পরলোকগমন করলেন। কিডনির সমস্যার জন্যই কিছুদিন আগে বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন, আজ সেখানেই তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সত্যজিত রায়ের ‘বিমলা’।
{link}
সিনেমার থেকেও বাংলা নাট্য জগৎ বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে স্বাতীলেখা সেনগুপ্তর অভিনয়ে। তবে বাংলা নয়, তাঁর মঞ্চে অভিনয় শুরু হয়েছিল এলাহাবাদ থেকে। সেখানে চুটিয়ে অভিনয় করার পর এসেছিলেন কলকাতায়। ১৯৭৮ সালে ‘নান্দীকার’ নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন স্বাতীলেখা। নান্দীকারেই আলাপ বিশিষ্ট নাট্যকার রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের সঙ্গে। পরে প্রেম। আরও পরে বিয়ে। এর পর রুদ্রপ্রসাদ-স্বাতীলেখার যৌথ প্রচেষ্টায় নান্দীকার পরিচিতি লাভ করেছিল কলকাতার অন্যতম সেরা নাট্যগোষ্ঠী হিসেবে। অভিনয়-নির্দেশনার পাশাপাশি একাধিক নাটকের ভাবানুবাদ করেছেন স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। ‘অজ্ঞাতবাস’, ‘নাচনি’, ‘মাধবী’র মতো নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।
পর্দায় অভিনয় শুরু করেছিলেন ১৯৮৪ সালে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনয় করেন সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছবি ঘরে-বাইরেয়। বিমলার ভূমিকায় অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন দর্শকদের। এর পর আর দীর্ঘদিন পর্দায় দেখা যায়নি তাঁকে। দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মঞ্চ। মঞ্চ দাপিয়ে বেড়ানোর সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল ১৯৭০ সালে। ওই বছর এলাহাবাদে নাট্যচর্চা শুরু করেন স্বাতীলেখা।পরে কলকাতায় ফিরে যুক্ত হন নান্দীকার থিয়েটার গোষ্ঠীর সঙ্গে। এখানে নাটক করতে করতেই সত্যজিতের সঙ্গে আলাপ ও পরে বিমলা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনজয় করে নেওয়া।
{link}
ঘরে বাইরে হওয়ার ৩১ বছর পর আবার বড়ো পর্দায় ফেরেন স্বাতীলেখা। বেলাশেষের পর্দায় তার ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় ইতিহাস সৃষ্টি হয় বাংলা সিনেমার পর্দায়। আজ এই জুটি পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিলেও মানুষের মনে তারা চির অমর হয়ে থাকবেন।
