নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ: প্রাচীন রীতি মেনে এখনো মশাল জ্বালিয়ে কালিপুজো হয়। আগে পুজোর সময় শেকল দিয়ে বাঁধ থাকত দেবীমূর্তি। তবে এখন আর শেকল বাঁধা হয় না। তবে দেবীর চক্ষুদানের সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় মন্দিরের সদর দরজা। স্থানীয় লোকমুখে কথিত রয়েছে, চক্ষুদানের সময় নাকি দেবীমূর্তি দুলতে থাকে। তাই আগে শেকল দিয়ে বাঁধা হতো প্রতিমা। এখন আর সেই নিয়ম নেয়।এখন শুধু কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ভক্তদের কাছে জাগ্রত মালদহের হবিবপুর ব্লকের মানিকোড়া ডাকাত কালি। পুজোকে ঘিরে সাতদিন ব্যাপী চলে মেলা, গানের আসর।
{link}
মালদহের হবিবপুরের মানিকোড়া গ্রামের এই কালি পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানান গল্প। সেখানে গেলেই শোনা যায় স্থানীয়দের মুখে এই সব গল্প পুজোর কাহিনী। তবে অধিকাংশ বাসিন্দাদের দাবি এই পুজো ডাকাত দলের হাত ধরেই সূচনা। অবিভক্ত বাংলায় ঘন জঙ্গলে ডাকাতেরা পুজো শুরু করেছিলেন এখানে। কালি পুজোর রাতে ঘন জঙ্গলে মশাল জ্বালিয়ে রাতভোর পুজো করে, প্রতিমা বিসর্জন করে চলে যেত ডাকাত দল। ডাকাতেরা পুজো বন্ধ করলে স্থানীয় জমিদার সেই কালি পুজো করে আসছে দীর্ঘদিন। তারপর স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাঁধে পুজোর দায়িত্ব তুলে দেন জমিদার। বর্তমানে মানিকোড়া গ্রামের বাসিন্দারা মিলিত হয়ে এই কালি পুজো করছেন। একসময়ের ডাকাত কালী বর্তমানে এখন সার্বজনীন কালী পূজা হিসাবেই পরিচিত এলাকাজুড়ে।
{link}
মানিকোড়া ডাকাত কালী ভক্তদের কাছে খুবই জাগ্রত। প্রতিবছর এই কালীপুজোয় তিন থেকে চার হাজার ছাগ বলি হয়ে থাকে। একসময় এখানে মহিষ বলি হত তবে বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র মালদহ জেলা নয় বর্তমানে রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে থেকে বহু ভক্তের সমাগম ঘটে এই কালীপুজোয়। বর্তমানে কালীপুজোকে ঘিরে এক বিশাল মেলার আয়োজন করে থাকেন গ্রামের বাসিন্দারা। দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এই কালীপুজো ও মেলা দেখতে আসেন। সাত দিন ব্যাপি চলে কালীপুজোর মেলা ও আলকাপ গানের আসর। ডাকাতদের হাত ধরে পূজোর সূচনা। তবে ঠিক কত প্রাচীন এই কালীপুজো তা জানা নেই স্থানীয়দের। শুধুমাত্র লোকমুখেই প্রচলিত রয়েছে ডাকাতদের হাত ধরেই শুরু পুজো। সেই পুজো জমিদার বাড়ির হাত ঘুরে বর্তমানে এখন সার্বজনীন।
.jpeg)
