সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নীল আকাশের বুকে শরতের পেঁজা তুলোর ন্যায় মেঘ। শিউলির গন্ধে আকাশে বাতাসে পুজো পুজো আমেজ। উমা আসছেন বাপের বাড়িতে। নাওয়া খাওয়া ভুলে এখন বাঙালি ব্যস্ত উমার আপ্যায়নের প্রস্তুতি করতে। কোভিড পরিস্থিতি কাটিয়ে টানা তিন বছর পর আবার ছোট বড়ো সমস্ত পূজা মন্ডপ গুলিতে কান পাতলে শোনা যাবে ঢাকের শব্দ। আশায় বুক বাঁধছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের ঢাকি পরিবারের সদস্যরা। ঢাকের ধুলো ঝেড়ে তাকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে নবরূপে।
{link}
অতিমারী করোনার প্রকপে ছন্দ পতন হয়েছিল মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। স্কুল কলেজ, অফিস কাছারি বন্ধের পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল নানান অনুষ্ঠান। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোর আড়ম্বরেও পড়েছিল করোনার ছায়া। একনাগাড়ে টানা তিন বছর নানান টালবাহানার পর এই বছর পুজোর আগেই প্রায় স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে পরিবেশ পরিস্থিতি। তাই নতুন করে আশার আলো দেখছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার অন্তর্গত দক্ষিণ বারাসাতের ঢাকী পরিবারের সদস্যরা। নিজেদের প্রিয় বাদ্যযন্ত্রটিকে ঝাড় পোঁচ করে চলছে মেরামতির কাজ।
{link}
পাড়াগাঁয়ের পুজোয় তেমন একটা উপার্জন হয় না তাদের, তাই প্রতিবছর পুজোর সময় শহরমুখী হয় দক্ষিণ বারাসাতের এই ঢাকি পাড়ার সদস্যরা। গত তিন বছর কোভিড পরিস্থিতিতে থমকে গিয়েছিল তাদের জীবনের গতি। তাই পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই প্রস্তুত হতে শুরু করেছে তারা। জয়নগরের ঢাকিপাড়ার এক ঢাকী বলেন, করোনার মহামারীর জেরে রুজি রুটিতে টান পড়েছে। করোনার জেরে বিগত কয়েক বছর নমো নমো করেই পুজো সেরে নিয়েছে উদ্যোক্তারা। তেমনভাবে ডাক পড়েনি আমাদের। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। আমরা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকি এই দিনটার জন্য। ইতিমধ্যেই আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়। আশায় বুক বেঁধেছি আমরা। আরও এক ঢাকি জানান, বছরে এই দিনটার জন্য চাতকের মতন চেয়ে থাকি। ঢাক বাজানোর পাশাপাশি সারা বছর আমরা চাষবাসের উপরই নির্ভর করি। গত দুবছর করণাময় মহামারীর জেরে রুজি দুটিতে টান পড়েছিল। কার্য তোর সংসার চালানোই দায় হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এবছর করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উমা মুখ তুলে তাকালেন। পুজোয় কাজ পেলে পরিবার আবার সুখে স্বাচ্ছন্দে চলবে। একচিলতে কুঁড়েঘরে উমার আগমনে এখন দেখা দিয়েছে আশার আলো। সমস্ত পরিবার আশায় বুক বাঁধছেন, ঘরে খুশির খবর ও একগাল হাঁসি নিয়ে দশমীর পর ফিরবেন কর্তা।
