সুদেষ্ণা মন্ডল, গঙ্গাসাগার: সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন পুন্যার্থীরা ৷ আগামীকাল পৌষ মাসের শেষ দিন, মকরসংক্রান্তি। উৎসবের আমেজ আর এই বিশেষ দিনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গঙ্গাসাগরে এসেছেন পুণ্যর্থীরা ৷ মাহেন্দ্রক্ষণে সাগরে স্নান সেরে পুণ্য অর্জন করবেন ৷ শনি, রবি দু'দিন ধরে চলবে এই স্নান। শুক্রবার থেকে চলছে স্নান ৷ জলে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন শয়ে শয়ে মানুষ ৷
{link}
এবার গঙ্গাসাগরে ছবি কার্যত অন্যরকম ৷ ফিরেছে ভক্তি ও শ্রদ্ধার সেই বাঁধ ভাঙা দর্শনার্থীদের ছবি। করোনা মহামারী না থাকার কারণে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীদের ভিড় সমুদ্র সৈকতে। কড়া পুলিশি নজরদারি, জলে ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী আর আকাশে ড্রোন ৷ জল, স্থল, আকাশ সব দিক দিয়ে গঙ্গাসাগরের প্রতিটি মূহূর্তের উপর চোখ রাখছে সরকার ৷ কোনও ভাবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না হয়, নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় ২০২৩এর গঙ্গাসাগর মেলা সেটাই মূল লক্ষ্য ৷ পুণ্যস্নানের এই বিশেষ ক্ষণ নিয়ে অন্য বছরের মতো এবছরও নানা মুনির নানা মত। কারও মতে ১৪ জানুয়ারি ভোর থেকে স্নান শুরু । যাই হোক, মকর স্নানের মাহেন্দ্রক্ষণে সাগরের জল স্পর্শ করতে ভারত নয়, দেশের বাইরে থেকেও বহু পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে এসেছেন ৷ সাগরসঙ্গমে স্নান সেরে কপিল মুনি মন্দিরে পুজো দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন তীর্থযাত্রীরা। রাতের অন্ধকার বা ভোরের কুয়াশা, কোনও কিছুই বাধা নয় তাঁদের কাছে। আট থেকে আশি, সকলের একটাই উদ্দেশ্য, পুণ্যার্জন। কেউ গঙ্গায় ডুব দিয়েছেন, কেউ বা অন্যদের দেখে মনের জোর বাড়াচ্ছেন, সাগরে ডুব দেবেন। এই ছবি যেন সত্যিই প্রান ফিরিয়ে দিয়েছে গঙ্গাসাগরের এই উৎসব প্রাঙ্গন কে।
