নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়াঃ দুই পরিবারের মধ্যে বচসার জের, লিলুয়ার ভট্টনগরে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পেটে লাথি। যার ফলে মৃত্যু হয়েছে ওই চার মাসের ভ্রুনের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় লিলুয়া থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে বাবা এবং ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। আক্রান্ত পরিবার এখনও আতঙ্কে রয়েছেন। ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের তরফে এলাকার এক পরিচিত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে।
{link}
পুলিশ সূত্রে খবর গত ১৪ই আগস্ট দুপুরে লিলুয়ার ভট্টনগর আমবাগান এলাকার বাসিন্দা রামকরন রায় বাড়ির সামনে বৃষ্টির জলে ভেসে আসা জঞ্জাল পরিষ্কার করছিলেন। এই নিয়ে তার প্রতিবেশী লক্ষ্মী তালুকদারের বচসা এবং ঝামেলা হয়। এরপর অশান্তি সাময়িকভাবে মিটলেও রাতের দিকে ৮-১০ জন দুষ্কৃতি সশস্ত্র অবস্থায় রামকরন রায়ের বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। সেই রাতে দুষ্কৃতীরা রামকরণের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী উর্বশী রায়ের উপর চড়াও হয়ে তাকে বেধড়ক মারধর এবং পেটে লাথি মারলে চার মাসের ভ্রুন নষ্ট হয়ে যায়। আক্রান্ত পরিবারের অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে নিয়ে এই হামলার নেতৃত্ব দেয় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কেশব হালদার। আহত উর্বশী রায়কে প্রথমে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। বাড়িতেই সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
{link}
গত ১৮ই আগস্ট লিলুয়া থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করে ওই পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। গতকাল রাতে পুলিশ এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রেম তালুকদার এবং তার ছেলে প্রকাশ তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের আজ হাওড়া আদালতে তোলা হবে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান পারিবারিক ঝামেলার জেরে এই ঘটনা। এর সঙ্গে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। পুলিশ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা শুরু করেছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কেশব হালদার তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন সেদিন সন্ধেবেলায় তিনি ওখানে ছিলেন না। এই ঘটনার বিন্দুবিসর্গ তিনি জানেন না। এমনকি তিনি শ্বশুরবাড়িতেও যান না বলে দাবি করেছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে।
