সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিন ২৪ পরগনা : আবারও শাসক দলের গোষ্ঠিদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত বাসন্তী। গুরুতর জখম হলেন এক যুব তৃণমূল কর্মী।ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে বাসন্তী থানার আমঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢুঁড়ি এলাকা।ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন মোরসেলিম সেখ নামে এক যুব তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। বর্তমানে ওই যুব কর্মী ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকায় তিব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে।
{link}
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে গত ১৮ জানুয়ারী বিজেপির ডাকে বাসন্তীতে একটি মিছিল ও পরে জনসভা হয়। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিজেপির সেই জনসভার পাল্টা দিতে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে রবিবার বিকালে এক জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল বাসন্তীতে।জনসভায় মূখ্য বক্তা ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।রবিবার মন্ত্রী যখন বাসন্তীর সভাস্থলে যাচ্ছিলেন,সেই সময় বেশকিছু তৃণমূল কর্মী সমর্থক মন্ত্রীর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ভাঙনখালির কলতলা এলাকায়।মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি অংশকে জনসভা সম্পর্কে না জানানোর বহিঃপ্রকাশ এই বিক্ষোভ। যদিও সে কথা অস্বীকার করেছেন বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল। এই প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন সকল কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে রবিবার জনসভায় উপস্থিত না হওয়ার জন্য এবং মাদার দল করার জন্য এলাকায় যুব তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ।সোমবার বাসন্তীর ভাঙনখালির কলতলা এলাকায় মাদার গোষ্ঠির লোকজনের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন জয়উদ্দিন মোল্লা নামে এক যুব তৃণমূল কর্মী।যদিও কলতলার ঘটনা কে পারিবারিক ঘটনা বলে জানিয়েছেন বিধায়ক শ্যামল মন্ডল। ঘটনার সাথে রাজনৈতিক কোন যোগ নেই বলে মতপ্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢুঁড়ি বাজারে চা খেতে গিয়েছিলেন মোরসেলিম সেখ নামে এক যুব তৃণমূল কর্মী। অভিযোগ সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের দলের জনা কুড়ি সমর্থক মোরসেলিম কে লাঠি,লোহার রড,কোদালের বাঁট দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।ঘটনায় গুরুতর জখম হয় ওই যুব কর্মী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। মোরসেলিমের দাবী ‘ঢুঁড়ি এলাকায় বেশ কিছু দুষ্কৃতি এবং সমাজবিরোধী রয়েছে। যারা বিগত দিনে আরএসপি,সিপিএমের ছত্রছায়ায় ছিল। বর্তমানে মাদার তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রয়েছে। তাদের ইচ্ছামতো দল করতে হবে। তাদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য না দেওয়ায় এমন অত্যাচার চালাচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ কে জানিয়েছি।’
অন্যদিকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মী বাবলু কয়াল বলেন এলাকায় লাল্টু বায়েন,বেনে কয়াল,ছট্টু কয়ালদের মতো বেশকিছু সমাজবিরোধী রয়েছে।যারা বিগত দিনে খুনের ঘটনায় জড়িত। বর্তমানে জামিন নিয়ে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের মাদার দলের ছত্রছায়া থেকে এলাকা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই যুব তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে। পুলিশ কে জানিয়েও কোন সুরাহা হয়নি।
