যেভাবে একের পর এক বড়ো রাজনৈতিক নাম নিয়ে রাজ্যে লড়াইয়ে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল, তাতে ত্রিপুরায় তৃণমূলের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন বহু বিজেপি নেতা! বঙ্গে যেভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিলেন বামেরা, সেভাবেই ত্রিপুরায়ও বধ হওয়ার সম্ভাবনা বিজেপির। দিন কয়েক আগে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছিলেন ত্রিপুরার অনেক বিজেপি নেতাই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এঁরাই দেখতে পাচ্ছেন, ত্রিপুরেশ্বরীর রাজ্যে বিজেপির পতন আসন্ন। যার ফলে ঠিক যেরকম এই রাজ্যে ভোটের আগে দল পরিবর্তনের ঢল দেখা গিয়েছিল সেই একই ছবি দেখতে পাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে ত্রিপুরাতেও। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিন দুয়েক আগে জানিয়েছিলেন, ত্রিপুরার প্রাক্তন স্পিকার জিতেন সরকার যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের সঙ্গে। অঘটন ঘটার একটা সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বিপুলভাবে।
জিতেন ত্রিপুরা বিধানসভার পাঁচবারের বিধায়ক। তিনি প্রাক্তন সিপিএম ও কংগ্রেস নেতা। বর্তমানে রয়েছেন বিজেপিতে। তাঁর উপলব্ধি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। জিতেনের মতে, একটা রাজনৈতিক দল কোনও রাজ্যে বিস্তারলাভের পরিকল্পনা করতেই পারে। কিন্তু শাসকদল বিজেপি তা যেভাবে রাজ্যে আটকানোর চেষ্টা করছে সেই তালিবানি কায়দা সমর্থন করেন না তিনি। বিজেপি সরকারের অবস্থানের সঙ্গে সহমত নন বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
{link}
ত্রিপুরা অভিযানে গিয়ে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন তৃণমূলের নেতানেত্রীরা। জিতেন জানান, তৃণমূল নেতাদের ঠেকাতে বিজেপি তালিবানি কায়দায় আক্রমণ করছে। তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করছে। হোটেলে থাকতে পর্যন্ত দিচ্ছে না। তিনি বলেন, মানুষ এসব বরদাস্ত করবে না। জিতেন মনে করেন, কখনও কোনও রাজনৈতিক দলকে আটকাতে নির্মম আক্রমণের রাস্তা নিলে মানুষ তা মেনে নেয় না। এসব ভালো চোখে দেখে না। তাঁর পরামর্শ, যাঁরা এ ধরণের আক্রমণের রাস্তা নিচ্ছেন, তাঁদের অবিলম্বে বিরত হওয়া উচিত। বিজেপিকে বুঝতে হবে সুযোগ পেলে নিজেকে রক্ষা করতে সবাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। জিতেনের মতো আরও বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা ত্রিপুরায় তৃণমূলের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন বিজেপিরই একটা অংশ।
যার ফলে ইতিমধ্যেই একটা বড়োসড়ো পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু হয়েছে ত্রিপুরাতে। ঠিক যেইরকম একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বঙ্গে হাওয়া তুলেছিল। সেই হাওয়ায় ঝড় উঠলেও শেষ পর্যন্ত বাংলার মাটিতে বিজেপি সাফল্য পেতে সফল হতে পারেনি। কিন্তু, পালাবদল ঘটিয়ে ত্রিপুরায় তৃণমূল তা করে দেখাতে পারবে কি?
