সুদেষ্ণা মন্ডল , দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে চলেছে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৩ । গত দুবছরের তুলনায় এবছর রেকর্ড সংখ্যক পূর্ন্যার্থীদের ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা সাগর তীরে। কারন বিগত কয়েক বছর ধরে করোনা মহামারীর কারণে গঙ্গাসাগর মেলায় সেই অর্থে পূর্ন্যাথির ভিড় ছিল না বলেই চলে। এই বছর উঠে গিয়েছে বিধিনিষেধ, সেই কারনেই উপচে পড়া ভিড়ের সম্ভাবনা বিপুল। লক্ষ্যধিক মানুষের সমাগম হবে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান।
{link}
মেলাকে মাথায় রেখে একাধিক বেঠক হয়ে গিয়েছে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের মধ্যে। একাধিকবার জেলার আধিকারিকগণ প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন। সাগর মেলায় আসা পূর্ন্যাথীদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবায় কোনো প্রকার খামতি রাখতে চাইছে না জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। অসুস্থ রোগীদের সাহার্যার্থে এবার থাকছে ঢালাও চিকিৎসা পরিষেবা। ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলার সিএওএইচ ডা: জয়ন্ত কুমার সুকুল জানান, এবার সাগর মেলা যে অন্যান্য মেলার থেকে আলাদা হতে চলেছে তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল আগেই। এবার স্বাস্থ্য পরিষেবার জোর দেওয়া হবে সর্বাধিক। ৯ থেকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে সাগর মেলা উপলক্ষে ১০৩ জন মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত থাকবে মেলার বিভিন্ন জায়গায়। এরমধ্যে ১৮ জন থাকছে স্পেশালিস্ট চিকিৎসক। এছাড়াও প্রয়োজনে অন্যান্য স্বাস্থ্য জেলা থেকে আনা হবে অতিরিক্ত চিকিৎসক।
{link}
সাগর মেলার ৫ টি পয়েন্টে থাকছে বিশেষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। লট নং ৮, কচুবেড়িয়া, নারায়ণপুর পিএইচসি, বেনুবণ, সাগর মেলা গ্রাউন্ডে থাকবে এই কেন্দ্র গুলি। এবারেই প্রথম শিশুদের জন্য থাকছে বিশেষ ইউনিট। ৫০ শয্যার এই ইউনিট শুধুমাত্র শিশুদের জন্য ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য থাকছে আলাদা ব্যবস্থা। থাকছে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট। এছাড়াও সংক্রামক রোগীদের জন্য থাকছে ৬০ শয্যার আইসোলেশান ওয়ার্ড। এছাড়াও সংলগ্ন কাকদ্বীপ, ডায়মন্ডহারবার সহ একাধিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সাগর মেলার তীর্থযাত্রীদের জন্য আলাদাভাবে বেড সংরক্ষণ থাকবে। এর পাশাপাশি ডায়মন্ডহারবার থেকে মেলা গ্রাউন্ড পর্যন্ত রাস্তার পাশে একাধিক জায়গায় থাকবে ফার্স্ট এইড ব্যবস্থা। থাকছে এয়ার লিফটের সুবিধাও। সবমিলিয়ে এবার সাগর মেলায় থাকবে সু স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।
{link}
গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা বেশ কয়েক বার গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গঙ্গাসাগরের গিয়ে বেশ বেশ কয়েকবার বৈঠক ও মেলা প্রস্তুতির কাজ সরজমিনে খতিয়ে দেখেছে। গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হতে পারে। পুণ্যার্থীদের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কোনরকম অসুবিধা যাতে না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একটি ঐতিহাসিক উৎসবে যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই কারনেই সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে এই বিপুল পরিমান ব্যবস্থাপনা। কোনরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। দু বছরের বিধিনিষেধের পর, এবার বাঁধ-ভাঙা জনজোয়ার যে আসতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
{ads}