শেফিল্ড টাইম্স ডিজিটাল ডেস্ক : যে জলের অপর নাম জীবন, সেই জলই যদি মানুষ না খেতে পায়, তাহলে কিভাবে জীবন যাপন করবেন। গ্রামে রয়েছে একটি নলকূপ! তাও আবার দীর্ঘ বেশ কয়েক মাস ধরে খারাপ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বারবার পঞ্চায়েতে জানিয়ে কোন লাভ হয়নি। কয়েকদিন আগেই আবারো একবার পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হলে, কার্যত ঘাড় ধাক্কা দিয়ে গ্রামবাসীদের বের করে দেয় বলে অভিযোগ পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই গ্রামের মানুষজন নদী থেকে জল এনে খেয়ে জীবন যাপন করছেন। হাড়-হিম করা এই ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত কেশপুর ব্লকের ১৫ নম্বর এনায়েতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাপাসটিকরি গ্রামে।
{link}
গ্রামবাসীরা নলকূপের সামনে কার্যত বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। তাদের অভিযোগ তারা কি অপরাধ করেছেন যে জলটুকু খেতে পাবেন না। গ্রামের এক গৃহবধূ সুষমা পড়িয়া জানান, দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে আমরা নদীর জল এনে খাচ্ছি। পঞ্চায়েতে দরখাস্ত নিয়ে জানাতে গিয়েছিলাম, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে উপপ্রধান। আমাদের ছেলে মেয়েরা খুব কষ্টে রয়েছে। ৭০ ঊর্ধ্ব পুষ্প প্রমাণিক বলেন সরকার কি আমাদের কাছে ভোট নেয়নি সরকার, যে আমাদেরকে জল খেতে দিচ্ছে না। আমরা যদি বড়লোক হতাম তাহলে তো নিজেরাই কল বানিয়ে নিতাম। সরকারের কাছে আবেদনপত্র জানাতে গেলে কেন আমাদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবে। সন্তোষী বাগ নামে এক গৃহবধূ বলেন বিজেপি করার অপরাধে আমাদেরকে পানীয় জল থেকে বঞ্চিত রেখেছে। কার্যত তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে কেঁদে ফেলেন। দীর্ঘদিন ধরে কাপাসটিকরি গ্রামের ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবার এভাবে নদী থেকে জল এনে খেয়ে জীবন যাপন করছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই পঞ্চায়েত প্রধান এবং উপপ্রধান এর কাছে গেলে, কার্যত সংবাদ মাধ্যমকে দেখে লুকিয়ে পালিয়ে যান।
{link}
এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব তথা বিজেপির মন্ডল সভাপতি শুভেন্দু সামন্ত বলেন, যারা বিজেপিকে সমর্থন করেন তাদেরকে তৃণমূল কংগ্রেস এইভাবে অত্যাচার করছে। মানুষের ন্যূনতম চাহিদা জল থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির সরকার গঠন হবে, হিরন চট্টোপাধ্যায় কেশপুর থেকে বিপুল সংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ঘাটাল থেকে জিতলে, আমরা সাধারণ মানুষের পানীয় জলসহ সমস্ত সুযোগ সুবিধা করে দেব। তবে কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গরাই জানিয়েছেন, কোন মানুষকে পানীয় জল থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আমাদের সরকারের নির্দেশ রয়েছে টাংকারে করেও জল পৌঁছানোর ব্যবস্থা আমরা করব। ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিয়ে দেখছি খুব শীঘ্রই নলকূপ সারিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন পঞ্চায়েত তৈরি হয় সাধারণ মানুষের কথা শোনার জন্য। যদি তার কেউ দুর্ব্যবহার করে থাকে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

