ভোটার কার্ডের নাম সংশোধন কিংবা অন্য কোন সমস্যা থাকলে কিংবা নতুন ভোটার কার্ড করার জন্য ইতিমধ্যেই কলকাতার বিভিন্ন যায়গায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ক্যাম্পিং করা হচ্ছে। ১৫ই ডিসেম্বর অর্থাৎ আজ সেই ক্যাম্পিং-এর শেষ দিন। কিন্তু ইতিমধ্যেই শহর কলকাতা জুড়ে মানুষের মধ্যে নানা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে জানাচ্ছেন শুধু নাম সংশোধন করতে গিয়েই ঘুরতে হচ্ছে দু বছর ধরে। এমনই এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন শংকর পাল, তার স্ত্রীর নাম ভোটার কাজে ভুল রয়েছে। তা সংশোধন করতে তিনি দু বছর ধরে ঘুরছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তার কাছে চাওয়া কাগজপত্র তিনি জমা দিলেও এখনও অবধি ভোটার কার্ডে ওনার স্ত্রীর নাম পরিবর্তন করা হয়নি। তিনি আজও ৭ নং ওয়ার্ডের ক্যাম্পিং সেন্টারে এসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বর্তমানে হাল ছাড়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে শংকর বাবুর।
অন্যদিকে পৃথ্বীশ মুখার্জী নামে আর এক ব্যাক্তি শোনালেন অন্য আর এক ধরনের অভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানান হঠাৎ করেই তার ছেলে এবং স্ত্রীর ভোটার কার্ডের এপিক নম্বর পরিবর্তিত হয়ে গেছে। কিভাবে এই পরিবর্তন হল সেই নিয়ে তিনি বারবার বিভিন্ন যায়গায় ঘুরতে থাকেন। এমনকি জেসপ বিল্ডিং-এর ১২ নং রুমে গিয়েও তিনি সেখানকার আধিকারিকদের নির্দেশ অনুযাই সমস্ত কাগজপত্র জমা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারও কোন সুরাহা হয়নি।
সাধারন মানুষের কাছ থেকে ব্যাঙ্কের আপটুডেট পাসবুক, রেজিস্টার পেপার, আধার কার্ডের জেরক্স, বাবা-মার জন্মের সার্টিফিকেটের মতো অবান্তর সব তথ্য চাওয়া হচ্ছে, যার কোন সঠিক উত্তর নেই। কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এইরূপ কর্মকান্ডে কার্যত নাজেহাল মানুষ। দিনের পর দিন তাদের এই গাফিলতি করে করা কাজের কারনে বিপুল পরিমান ক্ষোভ জন্মেছে মানুষের মনে। এবং এই ঘটনা আজকের নয় দীর্ঘদিন ধরেই এইরূপ বিষয়ে নাজেহাল হয়ে আসছে সাধারন মানুষ। তাই স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন কমিশন ও তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তারা। অন্যদিকে কলকাতা 7 নম্বর ওয়ার্ডের বিদাযী কাউন্সিলর বাপী ঘোষ এই সবকিছু এককথায় স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন সাধারণ মানুষকে প্রচন্ডভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। তাই তিনি আবেদন করেছেন ১৫ ডিসেম্বর এর পরিবর্তে ভোটার কার্ড সংশোধন বা নতুন ভোটার কার্ড করার সময়সীমা বাড়িয়েছে ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হোক।