Logo

সময়ের সম্মুখে

শেফিল্ড টাইমস

ডিজিটাল

Date: 13/06/2026 E-Paper
Advertisement
Care and Cure 1

এসির সুইচ ও বৈদ্যুতিন পাখার দাপটে বাঙালির ঘরে আজ বাড়ন্ত তালপাতার হাতপাখা

Loading... রাজ্য
এসির সুইচ ও বৈদ্যুতিন পাখার দাপটে বাঙালির ঘরে আজ বাড়ন্ত তালপাতার হাতপাখা
#news #AC #Electrick Fans #Palm leave Fans #West Bengal

সুদেষ্ণা মন্ডল , দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তালপাতার পাখা আজ বিলুপ্তির পথে।  সেভাবে আর দেখা যায় না তালপাতার তৈরি হাতপাখা। আমরা সাধারনত জানি শৈশবের একটা মস্ত বড় স্মৃতি এই তালপাতার হাতপাখা। পুরানো সেই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানান রকমের নস্টালজিয়া। গ্রামবাংলায় শীতের কাঁথা , বর্ষার ছাতা আর গরমের পাখা এই তিনটি কথা আজও প্রচলিত। বাঙালির এই তিনটে জিনিস ছিল চিরকালের সম্বল। তবে এখন সময়ের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তার সাথে হাত পাখার প্রচলন অনেকটাই কমেছে। আর যার কারণে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে তালপাতার হাত পাখা তৈরির সাথে যুক্ত শিল্পীদের মধ্যে।

{link}

মানুষ এখন প্রযুক্তির মধ্যে ঢুকে পড়েছে।  আর এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিলুপ্তরপথে বহু ঐতিহ্যবাহী শিল্প। তার মধ্যে অন্যতম হলো এই তালপাতার হাতপাখা। চৈত্র মাস পড়তে না পড়তে মানুষ ব্যবসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়তো। আর সেই তখনকার দিনে এদিক-ওদিক তাকালেই গৃহস্থের ঘরে চোখে পড়তো বিভিন্ন নকশা সঙ্গে এখানে ওখানে পড়ে থাকত তালপাতার হাতপাখা।  আর সেই হাত পাখা দিয়েই হওয়া খেতে খেতে চলতো বিভিন্ন ধরনের গল্প আড্ডার কথা। কিন্তু সেই দিন আজ আর নেই আজ একটা সুইচ টিপলেই মাথার উপরে বনবন করে ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা। আবার কোন কোন ঘরে দরজা-জানলা বন্ধ করে এসির সুইচ টিপে খোঁজ মিলছে সুখের। কিন্তু কিছুদিন আগে গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তাল পাতার কোন বিকল্প ছিল না। তাই জয়নগর চন্ডিপুর বিস্তীর্ণ এলাকার তালপাতার শিল্পীরা আজ পড়েছেন অস্তিত্ব সংকটে। আগের মত আর সেভাবে বিক্রি হয় না তালপাতার পাখা। এখন তারা কিভাবে সংসার চালাবে সেই নিয়ে কিন্তু চিন্তিত এই হাতপাখা তৈরীর শিল্পীরা।  

{link}

হাতপাখা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা  ইন্তাজ নস্কর তিনি জানান, বেশ কয়েক দশকে হাতপাখা চাহিদা অনেকটাই কমে গিয়েছে আধুনিক যুগে ইলেকট্রিক চলে আসার পরে গ্রাম বাংলায় যে তালপাতার ঐতিহ্যবাহী পাখা সেই পাখা চাহিদা অনেকটাই কমে গিয়েছে। এখন প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টি হাতপাখা বিক্রি হত।  যেখানে আগে চৈত্র, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে বাজারে হাতপাখার চাইতে থাকত অপরিসীম। কার্যত ধীরে ধীরে হাতপাখা চাহিদা কমতে শুরু করে দিয়েছে। আগে এখানে তালপাতা হাতপাখা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে যেত। এখন সংসার চালাতে কার্যত ভীম-সিম খেতে হচ্ছে। তালপাতার হাতপাখার সঙ্গে যুক্ত থাকা বিভিন্ন মানুষের া এখন ক্ষতির মুখে। বহু মানুষ এই শিল্পকে ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে।

সর্বশেষ আপডেট: