আঘাত কাটিয়ে ক্রমেই ছন্দে ফিরছে গঙ্গাসাগর। সুত্রের পাওয়া খবর অনুযাই গতকাল, শুক্রবারই জল নেমে গিয়েছিল মন্দির ও আশ্রম চত্বর থেকে। আজ, শনিবার মন্দিরের ওপর আছড়ে পড়েছে সূর্যের রাঙা অরুণের উজ্জ্বল আলো। গোটা দ্বীপের জনজীবনও ক্রমেই হচ্ছে স্বাভাবিক। ভগবানের পূন্যভূমি আবার ফিরে পাচ্ছে তার পুরনো ছন্দ।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার, বুধবার সকালে ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে আছড়ে পড়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় যশ। তার প্রভাবে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস হয় এ রাজ্যের বিভিন্ন নদী এবং সমুদ্রে। ঝড়ের ব্যাপারে আগাম সতর্কতা থাকায় উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছিল আগেই। তার জেরে প্রাণহানির ঘটনা প্রায় ঘটেনি বললেই চলে।
{link}
যশের প্রভাবে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস হয় দিঘা, তাজপুর, শঙ্করপুর, মন্দারমনি, বকখালি সহ বিভিন্ন সৈকত এলাকায়। প্রবল জলোচ্ছ্বাস হয়েছে গঙ্গাসাগরেও। তার জেরেই কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে যায় কপিল মুনির মন্দিরের সামনে। আশ্রম এক সন্নিহিত এলাকাও চলে যায় জলের তলায়। বুধবার সকালে পুজোপাঠ সেরে মন্দিরেই দাঁড়িয়েছিলেন সেবায়েতরা। তারা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হননি। পরে প্রশাসনের লোকজন তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান। এরপর বৃহস্পতিবার ভরা কোটালের জেরেও ফের একবার জলমগ্ন হয় মন্দির চত্বর। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে রাতের দিকে জল নামতে শুরু করে। শুক্রবার জল একেবারেই নেমে যায়। বেশ কয়েকদিন বাদে শনিবার রোদ ঝলমলে দিন প্রত্যক্ষ করলেন গঙ্গাসাগরবাসী। এদিন ঘটা করে পুজোও হয়েছে মন্দিরে। নির্বিঘ্নে দুর্যোগ-পর্ব পেরিয়ে যাওয়ায় এদিন মন্দিরে পুজোও দিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকেই। মন্দিরের সেবায়েতরা চলে এসেছিলেন আগেই। চলে এসেছেন আশ্রমবাসীরাও। মন্দির চত্বরে থাকা দোকানদানিতে শুরু হয়েছে বেচাকেনাও।
{link}
যার ফলে ধীরে ধীরে ইয়াশের ধাক্কা কাটিয়ে ছন্দে ফিরছে ভারতবাসীর অন্যতম তীর্থক্ষেত্র গঙ্গাসাগর। একসময় বলা হত সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। সেই সময় যদিও এখন আর নেই। আধুনিক যানবাহন পরিষেবার কারনে সেই দিন যদিও এখন আর নেই। সেই কারনে ভক্তের যাতায়াতও এখন বেড়েছে অনেক। দ্রুত ভারতের এই ধার্মীয় পীঠস্থান তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসুক তাই চাইছেন সাধারন মানুষ।

