ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে সাইক্লোন ‘ইয়াস’। শক্তি বাড়িয়ে বুধবারই তাণ্ডব চালাবে অতি সক্রিয় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। আর ৪৮ ঘণ্টাও বাকি নেই। রাজ্যের উপকূল ঘেঁষে ওড়িশার বালাসোরে আছড়ে পড়তে চলেছে ইয়াস। অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে চলেছে রাজ্যের প্রায় ২০ টি জেলায়। আমফানের তাণ্ডব থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার প্রস্তুতির আর কোনও খামতি রাখতে চাইছে কোনও পক্ষ। এক বছর আগের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুরনাবৃত্তি এ বারও হোক তা কোনও ভাবে চাইছে না সিইএসসিও।
{link}
৭২ ঘণ্টা ধরে চলবে ইয়াস-এর তাণ্ডব। তাই কেউ যেন জীবনের ঝুঁকি না নেন, সেই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে যে প্রশাসন সর্ব শক্তি নিয়ে প্রস্তুত, সে ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন মমতা। ভার্চুয়ালিই নিজের কর্তব্য পালন করে চলেছেন তিনি। এদিন কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য ও উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম।
রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারির পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি সেরে রাখছে প্রশাসন। তৈরি কলকাতা পুরসভাও। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে গাছ কাটার সুবিধার জন্য বিশেষ আলো আনা হয়েছে পুরসভার তরফে। ঝড়ের সময় রাস্তার আলো বন্ধ থাকলে এই আলো ব্যবহার করে গাছ কাটা, নিকাশির কাজ করা হবে।
{link}
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, আমফানের থেকেও এই ঝড় আরও প্রবল আকার ধারণ করবে। এ দিন তিনি জানান, মূলত ২০ জেলায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে এই ‘সিভিয়ার’ সাইক্লোনের। মমতা জানিয়েছেন, নবান্ন এবং উপান্ন থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা সারাক্ষণ নজরদারি চলবে। ইতিমধ্যেই খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। আপদকালীন ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হল— ১০৭০ এবং ০৩৩-২২১৪৩৫২৬। উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে স্পেশাল টিম। ১৫ দিন আগে থেকে বার বার বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি। উপকূলীয় এলাকাগুলিতে চলছে বাঁধ মেরামতির কাজ। জেলায় জেলায় পৌঁছে গিয়েছে এনডিআরএফ টিম। বাতিল করা হয়েছে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন।
